মুর্শিদাবাদ, ৬ ডিসেম্বরঃ বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্য জুড়ে। তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর যে এই শিলান্যাস আনুষ্ঠানিক ভাবেই ৭ ডিসেম্বর করবেন বলে জানিয়েছিলেন, তা ঘিরেই আদালত পর্যন্ত পৌঁছেছিল বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় মসজিদ নির্মাণ কোনওভাবেই অসাংবিধানিক নয়, সুতরাং শিলান্যাস কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা যাবে না। এই নির্দেশ মিলতেই আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন হুমায়ুন।
শনিবার সকাল থেকেই বেলডাঙা এলাকায় উপচে পড়া ভিড়। স্থানীয়রা সারি সারি ইট হাতে নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের। মঞ্চে উঠে হুমায়ুন কবীর আদালতের সিদ্ধান্তকে হাতিয়ার করে সরাসরি বলেন, “মসজিদের ইট কেউ খুলতে পারবে না। দেখি কে হিম্মত দেখায়! প্রয়োজনে শহিদ হব, কিন্তু একটি ইটও তুলতে দেব না।” তাঁর দাবি, মুর্শিদাবাদের মাটিতে কোনও বহিরাগত এসে এই নির্মাণ থামাতে পারবে না।
মসজিদ নির্মাণের মোট বাজেট প্রায় ৩০০ কোটি টাকা, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই হুমায়ুন জানান, বহু দাতা এগিয়ে এসেছেন। অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেন একজন দেশের বিখ্যাত শিল্পপতি তাঁকে ফোন করে ৮০ কোটি টাকা অনুদানের আশ্বাস দিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, “এত সমর্থন যখন আছে, তখন মসজিদ নির্মাণ কে আটকাবে? হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার পথই বা রুখবে কে?”
এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন হুমায়ুন। মুখ্যমন্ত্রীর বহরমপুর সভায় সাসপেনশনের খবর জানতে পেরে তিনি সভাস্থল ত্যাগও করেন। এরপরই ৬ ডিসেম্বরের শিলান্যাস কর্মসূচি ঘিরে অভিযোগ ওঠে এতে এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। আদালতে মামলা দায়ের হলে পরিস্থিতি চরমে ওঠে।
তবে হাইকোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দেয় প্রশাসনের কাজ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীও নামানো যেতে পারে। কিন্তু শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় কাঠামো নির্মাণে নিষেধাজ্ঞার কোনও যুক্তি নেই। আদালতের এই সবুজ সংকেতের পর বেলডাঙায় মসজিদ শিলান্যাস কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায় জনতার মধ্যে।





