নয়াদিল্লী, ১০ অক্টোবরঃ সিজেপি-র আন্দোলন ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত দিল্লি। নিরাপত্তার কড়াকড়িতে রাজধানীর একাধিক এলাকায় যখন ধরপাকড় চলছে, তখনই ভোটচুরির অভিযোগ তুলে সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নিজের বাড়ির সামনে ধরনায় বসলেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ বলে খবর। আটক করা হয়েছে তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাকেত গোখেল-সহ দলের একাধিক নেতাকেও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে রাজধানীতে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। কিন্তু কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ে। মধ্য দিল্লির একাধিক জায়গায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি থাকায় জমায়েত ও বিক্ষোভের উপর বিধিনিষেধ রয়েছে বলে খবর। পুলিশ আগেই সতর্ক করেছিল, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতেই সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নিজের বাড়ির সামনে ধরনায় বসেন মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, শামিরুল ইসলাম এবং সাকেত গোখেল-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতা। ভোটচুরির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে ধরনা বেশিক্ষণ চলেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন দিল্লি পুলিশের আধিকারিকেরা। তার পর মমতা-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতাকে আটক করা হয় বলে খবর। তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।
আটক হওয়ার পরেও প্রতিবাদ থামাননি মমতা। পুলিশের গাড়িতে যাওয়ার পথে সমাজমাধ্যমে ফেসবুক লাইভ করেন তিনি। সেখান থেকে ফের নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন তৃণমূল নেত্রী। লাইভে তাঁকে উপস্থিত অন্যদের সঙ্গে গান গাইতেও দেখা যায়।
একদিকে যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে সিজেপি-র বিক্ষোভ, অন্যদিকে সাউথ অ্যাভিনিউয়ে মমতার ধরনা ও আটক হওয়ার ঘটনা সব মিলিয়ে শনিবার দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশাসনের বিস্তারিত বক্তব্য সামনে না আসা পর্যন্ত ঘটনার একাধিক দিক স্পষ্ট হওয়া বাকি।





