নয়াদিল্লী, ১০ অক্টোবরঃ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত রাজধানী। শনিবার সকালে যন্তর মন্তরের দিকে এগোনোর আগেই পুলিশের বাধার মুখে পড়লেন বাম নেতৃত্ব। সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সুজন চক্রবর্তী-সহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। পুলিশের সঙ্গে বাম কর্মী-সমর্থকদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে প্রতিবাদ শুরুর আগেই দিল্লিতে তৈরি হয়েছে উত্তেজনার আবহ।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়। সিজেপি-র কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন সিপিএমের প্রবীণ নেতা বিমান বসু, সুজন চক্রবর্তী, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সৃজন বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বাম নেতা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের নেতা-কর্মীরাও।
অভিযোগ, যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার পথে কিছুটা এগোতেই পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে মীনাক্ষী-সহ বাম নেতৃত্বের ধস্তাধস্তি হয়। পরে সুজন ও মীনাক্ষীকে আটক করা হয় বলে খবর। মীনাক্ষীকে দিল্লির একটি স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
আটক এম এ বেবি, বৃন্দা কারাতও
সিজেপি-র বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়ের তালিকায় রয়েছেন সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং দলের নেত্রী বৃন্দা কারাতও। কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রায় ৪০০ বাম কর্মীকে আটক করার কথা সামনে এসেছে। যদিও আটক ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ তালিকা এবং তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট নয়।
এ দিকে, দিল্লিতে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর পুলিশ ঘিরে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দলের নেতৃত্ব যাতে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভে যোগ দিতে না পারেন, সে জন্যই এই পদক্ষেপ বলে দাবি বাম শিবিরের।
‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না’
পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছেন প্রবীণ বাম নেতা বিমান বসু। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ দিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না; বরং এই ধরনের পদক্ষেপে আন্দোলন আরও সংঘবদ্ধ হবে।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি-র কর্মসূচিতে বাম নেতৃত্বের যোগদান ঘিরে রাজনৈতিক তাৎপর্যও তৈরি হয়েছে। তবে নিরাপত্তার যুক্তিতে প্রশাসনের কড়াকড়ি এবং প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার অধিকার এই দুইয়ের সংঘাতেই আপাতত উত্তপ্ত দিল্লির পরিস্থিতি।





