নন্দীগ্রাম, ৫ অক্টোবরঃ রাত পোহালেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। তার ঠিক আগের দিন, সোমবার নন্দীগ্রাম থানার ইনস্পেক্টর ইন চার্জ (আইসি) বদল করল নির্বাচন কমিশন। অজয়কুমার মিশ্রকে সরিয়ে নতুন আইসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেবাশিস সরকারকে। ভোটের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে এই রদবদল ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কমিশনের নির্দেশিকায় আইসি বদলের কথা জানানো হলেও কেন এই সিদ্ধান্ত, তার কোনও নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ভোটের আগের দিন আচমকা থানার শীর্ষ আধিকারিক বদলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগেও রাজ্য পুলিশের একাধিক স্তরে বড়সড় রদবদল করেছিল নির্বাচন কমিশন। জেলার বিভিন্ন পুলিশ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছিল। অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করাই ছিল সেই পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য। ভোটের ফল ঘোষণার পরও নন্দীগ্রামের পুলিশ প্রশাসনে পরিবর্তন হয়েছিল। তৎকালীন আইসি শুভব্রত নাথকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অজয়কুমার মিশ্রকে। শুভব্রতকে পরে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডিতে ইনস্পেক্টর পদে পাঠানো হয়।
কয়েক মাসের মধ্যেই ফের বদল নন্দীগ্রামের আইসি। এবারও ভোটকে কেন্দ্র করেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত। যদিও ঠিক কী কারণে অজয়কে সরিয়ে দেবাশিসকে দায়িত্ব দেওয়া হল, তা নিয়ে কমিশনের তরফে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, নন্দীগ্রামে আইসি বদল হয়েছে, তা ভাল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সত্যিই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে নিরপেক্ষ ভোট করাতে পারবে কি না, তা ভোটের দিনই বোঝা যাবে।
রাজ্যের রাজনীতিতে নন্দীগ্রামের গুরুত্ব নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচন থেকেই এই কেন্দ্র বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এ বারও সেই নন্দীগ্রাম ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।
চলতি বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছাড়তে হওয়ায় নন্দীগ্রাম আসনটি তিনি ছেড়ে দেন। সেই কারণেই ৬ অক্টোবর সেখানে উপনির্বাচন।
ভোটের ঠিক আগের দিন আইসি বদলের সিদ্ধান্তে তাই প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ কি নিছক প্রশাসনিক রদবদল, নাকি এর পিছনে রয়েছে নির্দিষ্ট কোনও কারণ? উত্তর মিলবে ভোটের পরেই।





