শিলিগুড়ি, ৩ অক্টোবরঃ গবাদি পশু চুরির অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। তারই জেরে এ বার আইন হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠল উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে। গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনি, তার পর এক ব্যক্তিকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ভোরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল শিলিগুড়ি লাগোয়া মাটিগাড়া ও বাগডোগরা থানা এলাকার তারাবাড়িতে। ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক জন। পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের ব্যবহৃত দু’টি গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাটিগাড়া থানার অন্তর্গত তারাবাড়ির বালাসন নদীর ধারে ভোররাতে একটি সন্দেহজনক গাড়ি ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে শিলিগুড়ি শহর ও সংলগ্ন নকশালবাড়ি, বাগডোগরা এবং মাটিগাড়া এলাকায় রাতের অন্ধকারে গবাদি পশু চুরির একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। সেই কারণে আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। সন্দেহজনক গাড়িটি দেখেই গরু চুরির আশঙ্কায় চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে জড়ো হয়ে যান বহু মানুষ।
অভিযোগ, এর পর গাড়ি দু’টিকে ঘিরে ধরে ভাঙচুর চালানো হয়। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদেরও মারধর করেন উত্তেজিত লোকজন। এক পর্যায়ে এক ব্যক্তিকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। অপর এক ব্যক্তি গুরুতর জখম হন। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে, ঘটনার পর কয়েক জন সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মাটিগাড়া ও বাগডোগরা থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি মৃত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানার চেষ্টা শুরু হয়েছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চলছে।
শিলিগুড়ি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গবাদি পশু চুরির অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগের আবহে এই ঘটনা নতুন করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে চুরির অভিযোগ থাকলেও কাউকে মারধর বা হত্যা করার অধিকার জনতার নেই। অভিযোগের তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করা এবং আইনি পদক্ষেপ করাই পুলিশের কাজ। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।





