শিলিগুড়ি, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ পাহাড়ের মেঘ, ডুয়ার্সের জঙ্গল, চা-বাগানের সবুজ আর নদীর ছন্দ উত্তরবঙ্গের পর্যটনের ভাঁড়ারে বৈচিত্র্যের অভাব নেই। সেই সম্ভাবনাকেই আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার বার্তা দিয়ে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হল শিলিগুড়ির কলেজ মাঠে। শনিবারের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। ছিলেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়িকা শিখা চট্টোপাধ্যায়-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা।
উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে কী ভাবে পরিকাঠামো ও পরিষেবার উন্নতি করা যায়, অনুষ্ঠানের আলোচনায় উঠে আসে সেই প্রসঙ্গ। দার্জিলিং পাহাড় থেকে ডুয়ার্স, জলদাপাড়া-গরুমারা থেকে সিকিম-সংলগ্ন এলাকা প্রকৃতির নানা রূপকে পর্যটনের মানচিত্রে আরও জোরালো ভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
শুধু নতুন পর্যটনকেন্দ্রের প্রচার নয়, পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও ভাল করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটনকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, পরিষেবা এবং নিরাপত্তা সব কিছুর সমন্বয়েই পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা উঠে আসে অনুষ্ঠানে।
আর পর্যটনের সঙ্গে নিরাপত্তার সম্পর্কটিও এদিন আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। পর্যটনের প্রসার যত বাড়বে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও ততটাই শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে এমন বার্তাই উঠে এসেছে।
পর্যটনের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতির যোগও কম নয়। উত্তরবঙ্গে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে তার সুফল পৌঁছতে পারে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহণকর্মী, হোমস্টে মালিক থেকে শুরু করে নানা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাছে। স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও তাই অনুষ্ঠানের আলোচনায় জায়গা করে নেয়।
সব মিলিয়ে বিশ্ব পর্যটন দিবসের মঞ্চ থেকে উত্তরবঙ্গকে আরও বড় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার বার্তাই সামনে এল। কলেজ মাঠের অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসবের আবহের মধ্যেই যেন ফের মনে করিয়ে দেওয়া হল পাহাড়, জঙ্গল আর সবুজের এই ভূখণ্ডের পর্যটনের গল্প এখনও অনেকটাই বাকি।





