খড়্গপুর, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ ভোরের অন্ধকার কাটার আগেই বাড়িতে পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই থানায় প্রাক্তন বিধায়ক। দলীয় পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন পিংলার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অজিত মাইতি। শুক্রবার ভোরে খড়্গপুরের মাদপুরে তাঁর বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে পিংলা থানার পুলিশ। পরে তাঁকে ডেবরা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবারই তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে হাজির করানোর কথা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর অজিতের বিরুদ্ধে পিংলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন গোবিন্দ দাস। অভিযোগকারীর দাবি, ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূলের জামনা অঞ্চলের সভাপতি থাকাকালীন অজিত তাঁকে পিংলা ব্লক সভাপতি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে দফায় দফায় তাঁর কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পদ মেলেনি। টাকা ফেরত চাওয়া হলে উল্টে তাঁকে হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে পুলিশ। শুক্রবার সকালে অজিতের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় তদন্তকারী দল। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে জেলা পুলিশের তরফে এখনও বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
গ্রেফতারের পর অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অজিত। তাঁর দাবি, এই গ্রেফতার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে পুলিশ-প্রশাসনের উপর আস্থা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অজিতের রাজনৈতিক পরিচয়ও দীর্ঘ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পিংলা থেকে জিতে বিধায়ক হন তিনি। দীর্ঘ সময় তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। বর্তমানে তিনি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও পিংলা থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন, যদিও বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে শিবির বিভাজনের আবহ তৈরি হলেও অজিত মাইতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরেই ছিলেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একদা জেলার প্রভাবশালী এই নেতার গ্রেফতারি ঘিরে পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনীতিতেও নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এখন নজর আদালতের পরবর্তী নির্দেশ এবং পুলিশের তদন্তের দিকে।





