পূর্ব বর্ধমান, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ বালি থেকে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের প্রশাসনিক সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বালি পাচারের টাকা কোথায় যেত, তা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। তাঁর দাবি, “বালির টাকা সরাসরি যেত ক্যামাক স্ট্রিটে।” একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, “সব চোরেদের জেলে যেতে হবে।”
পূর্ব বর্ধমানে পৌঁছে প্রথমে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে পুলিশ লাইন মাঠের সভা থেকে রাজ্যে বিজেপি সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরার সময় আচমকাই বালি পাচারের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, ভোটের আগে বিপুল পরিমাণ বালি মজুত করে রাখার পরিকল্পনা হয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর তাঁর সরকার সেই কারবার বন্ধ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর পরেই বক্তব্যের নিশানা আরও সরাসরি অভিষেকের দিকে ঘুরিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও বালি পাচারের টাকা ক্যামাক স্ট্রিটে যাওয়ার অভিযোগের সমর্থনে সভায় কোনও নথি বা তদন্তের ফল প্রকাশ করেননি তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগ উঠেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরকে ঘিরে পুলিশি তদন্ত ও আইনি টানাপড়েনও হয়েছে।
শুধু বালি নয়, পূর্ব বর্ধমানের মঞ্চ থেকে মাদক নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা, মাদক কারবারে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দীর্ঘ কারাবাসের মুখে পড়তে হবে। পাশাপাশি ধর্মান্তর, ‘লাভ জিহাদ’ এবং ‘ল্যান্ড জিহাদ’-এর বিরুদ্ধে আইন আনার কথাও ফের জানিয়েছেন তিনি।
দুর্গাপুজো নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজো না করা এবং অষ্টমীর দিন মদের দোকান বন্ধ রাখার কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে ‘ডিজে সংস্কৃতি’ নিয়ন্ত্রণের বার্তাও দিয়েছেন।
ফলে পূর্ব বর্ধমানের প্রশাসনিক সভা উন্নয়ন ও সরকারি প্রকল্পের ঘোষণার পাশাপাশি হয়ে উঠল রাজনৈতিক আক্রমণের মঞ্চও। এক দিকে বালি পাচার ও মাদক রুখতে কড়া অবস্থানের বার্তা, অন্য দিকে প্রাক্তন শাসকদলের নেতৃত্বকে নিশানা দুই সুরই স্পষ্ট ছিল মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে।





