পূর্ব বর্ধমান, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ শস্যভান্ডারের মাটিতে দাঁড়িয়ে কৃষকদের জন্য একের পর এক ঘোষণা। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের প্রশাসনিক সভা থেকে কৃষি ও কৃষকের আয় নিয়ে একগুচ্ছ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিদ্যুতের খরচ কমানো থেকে ধান কেনা, কৃষকবন্ধু থেকে প্রধানমন্ত্রী কিষান একাধিক প্রকল্পে সুবিধার পরিধি বাড়ানোর কথা জানালেন তিনি। পূর্ব বর্ধমানকে রাজ্যের ‘গর্বের শস্যভান্ডার’ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ৪ লক্ষের বেশি কৃষক প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ২ টাকা করে ভর্তুকি পাবেন। এর জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ করবে রাজ্য সরকার। তাঁর দাবি, বছরে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচে সাশ্রয় হতে পারে কৃষকদের।
শুধু বিদ্যুৎ নয়, ধান কেনার ক্ষেত্রেও ‘মিডলম্যান’ বা ফড়েদের ভূমিকা কমানোর কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, সরকারই কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনবে। ১০০ কুইন্টাল ধান দিলে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎসাহ ভাতা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। পাঁচ একর পর্যন্ত জমির মালিক কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কুইন্টাল ২৭০০ টাকা দরে ধান কেনার ঘোষণাও করেন।
কৃষকবন্ধু প্রকল্প নিয়েও বড় বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যাচাই-প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। জমির পরিমাণ অনুযায়ী কৃষকেরা বছরে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত সুবিধা পাবেন বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধির ক্ষেত্রেও বাড়তি সুবিধার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, যাচাইয়ের পর যোগ্য আবেদনকারীদের কেন্দ্রের ৬ হাজার টাকার সঙ্গে রাজ্যের আরও ৩ হাজার টাকা মিলিয়ে বছরে মোট ৯ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
পূর্ব বর্ধমানের প্রশাসনিক সভা থেকে কৃষির পাশাপাশি বিদ্যুৎ, সেচ, সেতু এবং পরিকাঠামোর একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসও করা হয়। পাশাপাশি আলুচাষিদের জন্য ডিসেম্বরের মধ্যে বিশেষ প্যাকেজ আনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ফলে বর্ধমানের সভা কার্যত হয়ে উঠল কৃষক-কেন্দ্রিক একগুচ্ছ ঘোষণার মঞ্চ। ধান, আলু, বিদ্যুৎ কৃষকের উৎপাদন খরচ থেকে ফসল বিক্রি, দুই দিকেই নজর দেওয়ার বার্তা দিল রাজ্য সরকার।





