কোচবিহার, ২৪ সেপ্টেম্বরঃ দিনভর ব্যস্ততা। দোকানের সামনে ক্রেতার ভিড়। পণ্যবাহী গাড়ির আনাগোনা। শহরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র এন এন রোডে সেই চেনা ছবিটাই বৃহস্পতিবার বদলে গেল। ট্রাফিক পুলিশের জরিমানাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী-পুলিশের টানাপোড়েন গড়াল বিক্ষোভে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে এক দিকে যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, অন্য দিকে ব্যবসা সচল রাখার দাবি দুইয়ের সংঘাতে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এন এন রোডে দীর্ঘদিনের যানজটের সমস্যা সামলাতে কয়েক দিন আগে পণ্যবাহী গাড়ি থেকে মাল ওঠানো-নামানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ট্রাফিক পুলিশ। প্রশাসনের যুক্তি, দিনের ব্যস্ত সময়ে রাস্তার উপরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে লোড-আনলোড চললে যান চলাচল ব্যাহত হয়। তাই নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে ওই কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সেই সময়সীমা না মেনেই দিনের বেলায় কয়েকটি পণ্যবাহী গাড়ি থেকে মাল ওঠানো-নামানো চলছিল। খবর পেয়ে ট্রাফিক পুলিশের এক আধিকারিক সেখানে পৌঁছে নিয়মভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলিকে জরিমানা করেন। আর তার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ীদের একাংশ ওই আধিকারিককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট সময় মেনে প্রতিদিনের ব্যবসা চালানো বাস্তবে সবসময় সম্ভব নয়। দূরবর্তী এলাকা থেকে পণ্যবাহী গাড়ি কখন আসবে, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করতে হয়। ফলে সময়সীমা আরও বাস্তবসম্মত করার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, সেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে সরাসরি জরিমানা করায় ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এক ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি বলেন, “প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা জরিমানা হলে ব্যবসা চালানো কঠিন। প্রশাসনের সঙ্গে বসে সময়সূচি নতুন করে ঠিক করার দাবি জানিয়েছিলাম। স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এন এন রোডের দোকানপাট বন্ধ থাকবে।”
অন্য দিকে, ট্রাফিক বিভাগের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতেই লোড-আনলোডের সময় নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অমান্য হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে এই টানাপোড়েনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের উপর। কেনাকাটা করতে এসে বহু মানুষ দোকান বন্ধ পেয়েছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদেরও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এখন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা কত দ্রুত কাটে, সেদিকেই নজর কোচবিহারবাসীর।





