নন্দীগ্রাম, ২৪ সেপ্টেম্বরঃ নন্দীগ্রামের ভোট যত এগোচ্ছে, ততই আইনি জটিলতা বাড়ছে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে। ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনের সময়ের পুরনো মামলায় গ্রেফতার হয়ে এখন জেল হেফাজতে রয়েছেন তিনি। তার মধ্যেই সামনে এল আরও একটি মামলা। বৃহস্পতিবার সেই মামলায় আপাতত স্বস্তি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ, আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ওই মামলায় মিলনের বিরুদ্ধে কোনও পুলিশি পদক্ষেপ করা যাবে না। তাঁকে ওই মামলায় গ্রেফতারও দেখানো যাবে না।
ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। ২০০৭-এর নন্দীগ্রাম-পর্বে খুন, খুনের চেষ্টা, জমায়েত, লুটপাট-সহ একাধিক অভিযোগে দায়ের হওয়া পুরনো মামলায় পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে মিলনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলির মধ্যে কয়েকটিতে তাঁকে আদালতে হাজির করিয়ে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। পরে বাকি মামলাগুলিতেও গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
মঙ্গলবারের শুনানিতে রাজ্যের তরফে আদালতকে জানানো হয়েছিল, মিলনের বিরুদ্ধে যে পাঁচটি মামলায় রক্ষাকবচ চাওয়া হয়েছিল, সেগুলি প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে আপাতত আলাদা নির্দেশের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছিল আদালত। কিন্তু তার পরেই সামনে আসে আরও একটি মামলা। মিলনের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, রাজ্য আগে জানিয়েছিল অন্য কোনও মামলা বিচারাধীন নেই। অথচ নতুন মামলায় তাঁকে ‘শো অ্যারেস্ট’ করা হয়েছে।
রাজ্যের পাল্টা বক্তব্য, ওই মামলায় গ্রেফতারি আগেই হয়ে গিয়েছিল। ২০২১ সাল থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল বলেও জানানো হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দীর্ঘদিনের মুলতুবি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে-এমনই দাবি রাজ্যের। আদালত অবশ্য প্রশ্ন তোলে, ২০২১ সালে পরোয়ানা জারি হয়ে থাকলে এত দিন পরে কেন তা কার্যকর হল।
শেষ পর্যন্ত নতুন মামলায় ১২ অক্টোবর পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন ৬ অক্টোবর। ফলে ভোটের আগে জেলবন্দি প্রার্থীর আইনি লড়াইয়ে আপাতত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব যোগ হল। মামলার পরবর্তী শুনানি ১২ অক্টোবর।





