রেজিনগর, ২৪ সেপ্টেম্বরঃ ভোটের দিন যত এগোচ্ছে, রেজিনগরে ততই চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। উপনির্বাচনের আগে এ বার সরাসরি থানার দরজায় বসে পড়লেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। বৃহস্পতিবার রেজিনগর থানার সামনে ধরনায় বসে তাঁর অভিযোগ, উপনির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের একের পর এক গ্রেফতার করা হচ্ছে, বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশি ‘হয়রানি’ বন্ধ এবং মামলা প্রত্যাহার না হলে ধরনা অনির্দিষ্টকাল চলবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রেজিনগরে উপনির্বাচন আগামী ৬ অক্টোবর। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নওদা এবং রেজিনগর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন হুমায়ুন। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন তিনি। সেই আসনে তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদকে প্রার্থী করেছে AJUP। ফলে ভোটের ময়দানে লড়াই যখন ক্রমেই জমছে, তখনই দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ঘিরে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
হুমায়ুনের দাবি, পুরনো মামলা সামনে এনে দলের ব্লক ও রাজ্য স্তরের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সম্প্রতি AJUP-এর একাধিক নেতার গ্রেফতারের খবরও সামনে এসেছে। পুলিশ অবশ্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতেই গ্রেফতারির কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে মন্তব্যের অভিযোগে দলের ব্লক নেতা নাসিম শেখের গ্রেফতার এবং আরও কয়েক জন AJUP কর্মী-নেতার বিরুদ্ধে মামলার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে।
থানার সামনে দাঁড়িয়ে হুমায়ুনের অভিযোগ, বিজেপির নির্দেশে পুলিশ তাঁর দলের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। রেজিনগর, বেলডাঙা ও শক্তিপুর থানার আধিকারিকদের বদলির দাবিও তুলেছেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, ভোটে কারচুপি করে জয় পাওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
এর আগে শক্তিপুর থানার সামনেও ধরনায় বসেছিলেন হুমায়ুন। এ বার রেজিনগর থানার সামনে তাঁর অবস্থান উপনির্বাচনের আগে প্রশাসনকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর যে আরও তীব্র হচ্ছে, তারই ইঙ্গিত। ভোটের আগে এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা এবং অবাধ ভোটের পরিবেশ নিয়ে নজর থাকবে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের দিকেই।





