দিল্লি, ২৪ সেপ্টেম্বরঃ ঘাসফুলের দখল আপাতত কারও হাতেই নয়। তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে চলা টানাপোড়েনে বৃহস্পতিবারও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হল না সুপ্রিম কোর্টে। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি শীর্ষ আদালত। তবে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সতর্ক করে কমিশনকে দ্রুত বিবাদ মেটানোর জন্য বাস্তবসম্মত সময়সীমা জানাতে বলেছে তিন বিচারপতির বেঞ্চ। পরবর্তী শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর।
মামলার সূত্রপাত তৃণমূলের অন্দরের ভাঙন থেকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সমর্থিত গোষ্ঠী দু’পক্ষই নিজেদের তৃণমূলের বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করেছে। সেই বিবাদে ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ঘাসফুল প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একই সঙ্গে উপনির্বাচনের জন্য দুই গোষ্ঠীকে পৃথক নাম ও প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়।
কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান মমতা। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে শুনানি হয়। মমতার হয়ে সওয়াল করেন কপিল সিব্বল। তাঁর প্রশ্ন ছিল, ভোটের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার পরে কমিশন এ ধরনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে পারে কি না। আদালত অবশ্য এই পর্যায়ে কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি। বরং কমিশনকে জিজ্ঞাসা করেছে, দুই পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কতটা সময় প্রয়োজন।
শুনানিতে উঠে আসে শিবসেনার প্রতীক-বিতর্কও। ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী মুকুল রোহতগি সেই প্রসঙ্গ তোলেন। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “শিব সেনার ক্ষেত্রে বিলম্বের কী পরিণতি হয়েছে, তা আমরা দেখেছি।” অর্থাৎ, বিবাদ দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার দিকেই ইঙ্গিত করে আদালত।
এখন উপনির্বাচনের ময়দানে দুই শিবিরের পরিচয়ও আলাদা। কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় মমতা-শিবির ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীকে এবং প্রতিপক্ষ শিবির ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে খাম প্রতীকে লড়ছে। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে তাই আদালতের নজর এখন মূলত এক প্রশ্নে কত দ্রুত শেষ হবে তৃণমূলের এই নাম-প্রতীকের লড়াই?





