মুর্শিদাবাদ, ২৩ সেপ্টেম্বরঃ বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্কিত অডিয়ো-কাণ্ডে ফের বহরমপুর থানায় হাজিরা দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বুধবার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর থানা থেকে বেরিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুললেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁকে মেরে ফেলার চক্রান্ত চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে পুলিশ ‘জামাই আদর’ করছে।
অডিয়ো-কাণ্ডে সোমবারও প্রায় চার ঘণ্টা হুমায়ুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল বহরমপুর থানার পুলিশ। সেদিনই ফের বুধবার সকাল ১১টায় হাজিরার নোটিস দেওয়া হয় তাঁকে। নির্ধারিত সময়ের আগেই এ দিন থানায় পৌঁছে ফের পুলিশ ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন নওদার বিধায়ক।
থানায় ঢোকার আগে হুমায়ুনের অভিযোগ, পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংখ্যালঘুদের ভিন্রাজ্যে চলে যেতে বলছে, যাতে বিজেপি ভোটে সুবিধা পায়। তাঁর আরও দাবি, এজেইউপির নেতা-কর্মীদের বেছে বেছে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশ বিজেপি সরকারের দালালি করছে।’’ যদিও এই সমস্ত অভিযোগের স্বাধীন ভাবে কোনও প্রমাণ মেলেনি।
বাবরি অডিয়ো-কাণ্ডের সূত্রপাত একটি ফোনালাপকে ঘিরে। অভিযোগ, নির্মীয়মাণ বাবরি মসজিদ এলাকায় বিজেপির পতাকা লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে ওই কথোপকথন হয়েছিল। অডিয়োর অন্য প্রান্তে হুমায়ুন ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশ তদন্তে নেমে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করে। হুমায়ুনের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
এ দিকে, রেজিনগর উপনির্বাচনের আবহে হুমায়ুনের এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। তাঁর দলের কর্মীদের গ্রেফতারির বিষয়ে আগেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনের মন্তব্য নিয়ে বলেন, ‘‘হুমায়ুন কবীরের বিষয়ে কথা বলার কোনও আগ্রহ নেই।’’
অডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তার সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে অডিয়োয় কার কণ্ঠ ছিল বা কথোপকথনের প্রেক্ষাপট কী তা তদন্তেই স্পষ্ট হওয়ার কথা।





