কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর: এক দিকে থানার বাইরে প্রাক্তন বিধায়ককে মারধরের অভিযোগ, অন্য দিকে আদালত চত্বরে আইনজীবী-নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ। পর পর দু’টি ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভাষা ও সংস্কৃতি। এ বার সেই দুই ঘটনাকে একই সূত্রে দেখলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক বিক্ষোভের নামে এমন আচরণ কোনও ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
মঙ্গলবার মুকুন্দপুরে দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে মমতাপন্থী তৃণমূল ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। পরে পূর্ব যাদবপুর থানার বাইরে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে মারধরের অভিযোগ সামনে আসে। কবীরের অভিযোগ, তাঁকে মারধর করে চশমা ভেঙে দেওয়া এবং পকেট থেকে জিনিসপত্র নিয়ে নেওয়া হয়। বিজেপির পাল্টা দাবি, তাদের এক কর্মীর উপর হামলার ঘটনাকে ঘিরেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
এই ঘটনাকে অবশ্য ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘হুমায়ুন কবীরকে মারবে কেন? উনি তো তৃণমূলও নয়, বিজেপিও নয়।’’ বিরোধী শিবিরের অন্দরের টানাপড়েনকেই এর জন্য দায়ী করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপি এই ধরনের রাজনৈতিক সংঘর্ষকে সমর্থন করে না।
অন্য দিকে, একই দিনে বারুইপুর আদালতে সিপিআইএম নেতা তথা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ভাঙড় কলেজের অশান্তির ঘটনায় ধৃত এসএফআই সদস্যদের হয়ে সওয়াল করতে গিয়েছিলেন সায়ন। আদালত চত্বরে তাঁকে হেনস্থার অভিযোগ সামনে আসতেই সরব হন দিলীপও।
তাঁর কথায়, আদালতের মতো জায়গায় কেউ কী ভাবে ডিম নিয়ে ঢুকল, তা পুলিশের দেখা উচিত ছিল। পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কে, কেন মারছে? সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত।’’
বিক্ষোভের সংস্কৃতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির পরস্পরকে দায়ী করার মধ্যেই দিলীপের বক্তব্য, প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও তার সীমা থাকা জরুরি। ‘‘এটা তো কালচার হয়ে গেছে এখন। আমরা চাই এগুলো বন্ধ হোক,’’ মন্তব্য তাঁর।





