রাজারহাট, ২৩ সেপ্টেম্বরঃ ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকাশ্যে এল বিজেপির অন্দরের টানাপড়েন। খাস দমদম পার্কে দলীয় কর্মসূচিতে মুখোমুখি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিধাননগরের বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। মঞ্চে ওঠা নিয়েই প্রথমে তৈরি হয় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। তার পরেই এলাকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পীযূষের একের পর এক প্রশ্নে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সভা। পাল্টা বক্তব্যে শারদ্বতও স্বীকার করেন, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট সংক্রান্ত অভিযোগ তাঁর কাছে এসেছে।
দমদম পার্কে বৈঠক করছিলেন শারদ্বত। সেই সময় সেখানে পৌঁছন পীযূষ। মন্ত্রী তাঁকে বার বার মঞ্চে ডাকলেও প্রথমে সেখানে উঠতে রাজি হননি রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জন মঞ্চে উপস্থিত কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে আপত্তি তোলেন বলে প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত মঞ্চ থেকে নেমে পীযূষকে নিয়ে ওঠেন শারদ্বত।
এর পরেই মাইক হাতে সরব হন পীযূষ। তাঁর বক্তব্য, দমদম পার্ক তাঁর পুরনো এলাকা এবং সেখানে তিনি কোনও দিন সন্ত্রাস বা সিন্ডিকেট চলতে দেননি। তাঁর অভিযোগ, যাঁদের আগে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হত না, তাঁদেরই আবার রাজনৈতিক ভাবে জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে। প্রোমোটারদের ফোন করে ডাকার অভিযোগও তোলেন তিনি।
পীযূষের বক্তব্যের জবাবে শারদ্বতের সুর ছিল তুলনায় আত্মসমালোচনামূলক। তিনি বলেন, সব কিছু ভাল চলছে একথা বলবেন না। তাঁর কাছে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট এবং প্রোমোটারদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ এসেছে। বহু অভিযোগকারী নাম প্রকাশ করতে চাননি বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, “ভয় আউট, ভরসা ইন” এখনও পুরোপুরি করা যায়নি।
সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই শাসকদলের দুই বিধায়কের প্রকাশ্য মতবিরোধ নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে দলীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দমদম পার্কের সভার সেই উত্তপ্ত মুহূর্ত আপাতত বিজেপির অন্দরমহলের সমীকরণ নিয়েই নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।





