কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বরঃ ভোটের ময়দানে প্রতীকই পরিচয়। আর সেই প্রতীক নিয়েই এ বার আদালতের কাঠগড়ায় নির্বাচন কমিশন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে জটিলতা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে। আইএসএফের অভিযোগ, ২০২১ এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যে প্রতীকে তারা লড়েছে, সেই ‘খাম’ কী ভাবে অন্য একটি রাজনৈতিক দলকে দেওয়া হল? মামলার শুনানিতে কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। কমিশনের কাছে চাওয়া হল লিখিত রিপোর্ট।
ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধে। ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারে আপাতত নিষেধাজ্ঞা জারির পর দুই গোষ্ঠীকে পৃথক নাম ও প্রতীক দেয় নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামের সঙ্গে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী পেয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক।
এই সিদ্ধান্তেই আপত্তি জানিয়ে হাই কোর্টে যায় ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট। তাদের বক্তব্য, এত দিন ধরে ব্যবহৃত প্রতীক হঠাৎ অন্য দলকে দেওয়ায় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আইএসএফের আইনজীবী আদালতে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।
কমিশনের তরফে অবশ্য বলা হয়েছে, ‘খাম’ কোনও সংরক্ষিত প্রতীক নয়। এটি ‘ফ্রি সিম্বল’। ফলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সেটি অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে বরাদ্দ করার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে।
শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, একই প্রতীক আগে একটি রাজনৈতিক দল ব্যবহার করে থাকলে তা অন্য দলকে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারদের বিভ্রান্তির বিষয়টি কী ভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। আদালত কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে, এই প্রতীক বরাদ্দের প্রক্রিয়া এবং সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী।
এরই মধ্যে কমিশন আইএসএফের ‘খাম’ প্রতীক বদলে ‘আলমারি’ করেছে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে প্রতীক-জট তাই নতুন মাত্রা পেল। এখন হাই কোর্টে কমিশনের রিপোর্টে কী ব্যাখ্যা আসে, নজর সেদিকেই।





