কলকাতা। ২১ সেপ্টেম্বরঃ ছ’বছর আগের সেই উত্তপ্ত দিনের মামলা ফের খুলে নাড়াচাড়া শুরু। ২০২০ সালে বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় এ বার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম থেকে গ্রেফতার হলেন দুই স্থানীয় তৃণমূল নেতা। ধৃতদের নাম রিপন শেখ এবং সঞ্জীব মণ্ডল। পুলিশের দাবি, তাঁদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। পরে তদন্তে ২০২০ সালের হামলার সঙ্গে তাঁদের যোগের সূত্র সামনে আসে।
ঘটনার শুরু অবশ্য ছ’বছর আগে। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ডায়মন্ড হারবারে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে উস্তির শিরাকোল এলাকায় নাড্ডার কনভয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে ফলতার দোস্তিপুর এলাকাতেও হামলার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। সেই সময় নাড্ডার সঙ্গে ছিলেন বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং সুকান্ত মজুমদারও। কনভয়ের একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে আসে।
এত দিন পর সেই মামলাতেই নতুন করে তৎপরতা। পুলিশ সূত্রে খবর, মগরাহাট পশ্চিম এলাকার বাসিন্দা রিপন ও সঞ্জীব স্থানীয় ভাবে তৃণমূল নেতা হিসাবে পরিচিত। প্রথমে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে পুরনো নাড্ডা কনভয় হামলার মামলার সঙ্গে তাঁদের যোগের বিষয়টি সামনে আসে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তবে তদন্তের এই পর্যায়ে ধৃতদের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের হামলায় নির্দিষ্ট কী ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে এল, তার সঙ্গে পুরনো হামলার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
পুরনো মামলার তদন্ত নতুন করে গতি পাওয়ার ইঙ্গিত অবশ্য এর আগেই মিলেছিল। ২০২৬ সালের জুনে নাড্ডার কনভয় হামলার মামলা ফের খতিয়ে দেখার খবর প্রকাশ্যে আসে। তদন্তকারীদের বক্তব্য ছিল, আগের তদন্তে কিছু দিক আরও গভীর ভাবে দেখা প্রয়োজন। সেই প্রেক্ষাপটেই এ বার দুই গ্রেফতারি মামলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এখন তদন্তের কেন্দ্রে মূলত তিনটি প্রশ্ন ২০২০ সালের হামলায় রিপন ও সঞ্জীবের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস কোথায় এবং পুরনো ঘটনার সঙ্গে আর কারও যোগ রয়েছে কি না। সেই উত্তর খুঁজতেই চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।





