কোচবিহার, ২০ সেপ্টেম্বরঃ এক পাশে সাজানো হস্তশিল্প, খাবার-দাবার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী। অন্য পাশে প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে উন্নয়নের হিসাব-নিকাশ। কোচবিহারের রবীন্দ্র ভবনে রবিবার যেন একই ফ্রেমে ধরা পড়ল গ্রামবাংলার অর্থনীতি এবং প্রশাসনিক পর্যালোচনা। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি পণ্য ঘুরে দেখলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তার পরেই কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার দুই জেলা নিয়ে বসে গেল ‘রুরাল ডেভেলপমেন্ট আউটকাম রিভিউ মিটিং’।
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহারের জেলাশাসক জিতিন যাদব, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা-সহ দুই জেলার বিভিন্ন বিধায়ক, মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। বৈঠকের আগে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রীর স্টল পরিদর্শন করেন দিলীপ।
স্টলে রাখা পণ্যগুলি দেখে মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। কী ভাবে পণ্য তৈরি হচ্ছে, তার গুণমান কেমন, উৎপাদনের ক্ষেত্রে কী কী সমস্যা রয়েছে এবং বাজারে সেই পণ্য পৌঁছচ্ছে কী ভাবে একাধিক বিষয়ে খোঁজ নেন তিনি। উৎপাদনের পাশাপাশি বিপণনের বিষয়টিও যে গুরুত্বপূর্ণ, সেই দিকটিও এ দিনের পরিদর্শনে গুরুত্ব পেয়েছে।
গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের আর্থিক ভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই গোষ্ঠীগুলির কাজ আরও কী ভাবে বাড়ানো যায়, তাঁদের তৈরি সামগ্রীর বাজার কী ভাবে সম্প্রসারিত করা যায় এবং সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে তাঁদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ কতটা তৈরি করা সম্ভব প্রশাসনের কাছে সেই সমস্ত বিষয়েও খোঁজ নেন মন্ত্রী।
এর পর রবীন্দ্র ভবনেই শুরু হয় দুই জেলা নিয়ে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক। গ্রামীণ উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি, ইতিমধ্যে হওয়া কাজ এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। কোন প্রকল্পের কাজ কোথায় দাঁড়িয়ে, কোথায় আরও গতি প্রয়োজন সেই বিষয়গুলিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে শুধু বৈঠকের টেবিলেই সীমাবদ্ধ ছিল না দিনের কর্মসূচি। কোচবিহার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উৎসব অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয় রক্তদান শিবিরের। সেখানেও উপস্থিত ছিলেন দিলীপ। প্রশাসনিক কাজের পর্যালোচনার পাশাপাশি সামাজিক কর্মসূচিতেও তাঁর উপস্থিতি নজর কাড়ে।
একই দিনে দুই জেলার গ্রামীণ উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর পণ্য পরিদর্শন এবং রক্তদান শিবির তিন কর্মসূচিকে ঘিরেই ব্যস্ত ছিল কোচবিহার।





