কলকাতা, ২০ সেপ্টেম্বরঃ ভোটের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের আঁচ এ বার যেন পৌঁছে গেল পাড়ার অলিগলিতেও। শনিবার সন্ধ্যায় যাদবপুরে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা মেয়র পারিষদ দেবব্রত (মলয়) মজুমদারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুঠপাটের অভিযোগ উঠল। একই সঙ্গে ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
অভিযোগ, বিজয়গড়ে ৩/১১ নম্বর বাড়িতে ঢুকে মলয় মজুমদারের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। মারধর করা হয়েছে প্রাক্তন বিধায়কের দাদা ও বউদিকেও এমনই অভিযোগ তাঁর পরিবারের। ঘটনার পর যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মলয়। তাঁর দাবি, বিজেপি নেতা অনুপম তালুকদার এবং সজল বসুর নেতৃত্বেই এই হামলা হয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
শুধু বাড়ি নয়, এলাকার একাধিক তৃণমূল কার্যালয় নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। আনন্দপল্লি, বিজয়গড়, বাঘাযতীন ডি-ব্লক-সহ চারটি দলীয় কার্যালয়ে প্রথমে ভাঙচুর এবং পরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তৃণমূলের অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় তৃণমূলের কোনও পার্টি অফিস খোলা যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, বাড়িতে ঢুকে মহিলা কর্মীদের মারধর এবং শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। এমনকি তাঁকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিজেপি বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললে পরিণতি ভাল হবে না এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি সীমার।
তৃণমূলের অভিযোগ, পুরভোটের আগে বিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতেই এই হামলা। তবে বিজেপির পাল্টা দাবি, ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। তাদের বক্তব্য, স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ বা জনরোষ থেকেই এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
ফলে এক দিকে তৃণমূলের গুরুতর অভিযোগ, অন্য দিকে বিজেপির দায় অস্বীকার দুইয়ের টানাপড়েনে যাদবপুরের শনিবারের সন্ধ্যা নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিল। অভিযোগের সত্যতা কতটা, হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, তা তদন্তেই স্পষ্ট হওয়ার কথা।





