পুরুলিয়া, ২০ সেপ্টেম্বর: একই দিন। একই মাটি। কিন্তু ছবিটা বদলে গিয়েছে। যে ২০ সেপ্টেম্বর গত কয়েক বছরে পুরুলিয়া-জঙ্গলমহলে আন্দোলন, অবরোধ আর দাবিদাওয়ার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল, এ বার সেই দিনেই কড়াডি মাঠে উঠল করম পরবের ঢাক। কয়েক হাজার মানুষের জমায়েত, করম নাচের দল, উৎসবের রং আর মঞ্চের কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কুড়মি সমাজের ডাকে পুরুলিয়া ১ ব্লকের কড়াডিতে রবিবার আয়োজন করা হয়েছে ‘করম পরবতিয়া মহা জুড়ুআহি’। গত কয়েক বছর ধরে ২০ সেপ্টেম্বরকে সামনে রেখে কুড়মি সংগঠনগুলির আন্দোলন ও অবরোধের ছবি দেখেছে জঙ্গলমহল। এ বার সেই একই তারিখে উৎসবের আবহ তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মঞ্চের ভাষাও।
কড়াডির মঞ্চ থেকে কুড়মি সমাজের দীর্ঘদিনের দাবির প্রসঙ্গও সামনে আসে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ করবে। তাঁর বক্তব্যে উচ্ছ্বাস ছড়ায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত কুড়মি সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে। কুড়মালি ভাষার স্বীকৃতির দাবি দীর্ঘদিন ধরেই এই সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবির তালিকায় রয়েছে।
তবে এই উৎসব নিছক সাংস্কৃতিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না তার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও চর্চা রয়েছে। কুড়মি সমাজের একাধিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে জনজাতির স্বীকৃতি, কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তি এবং সারনা ধর্মের পৃথক কোডের দাবিতে সরব। অন্য দিকে, কিছু আদিবাসী সংগঠন করম উৎসবের মঞ্চকে রাজনৈতিক দাবির জন্য ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে।
ফলে কড়াডির মঞ্চে এ দিন শুধু করমের নাচ-গান ছিল না। ছিল বদলে যাওয়া সময়ের ইঙ্গিতও। তিন বছর ধরে যে তারিখে আন্দোলনের ছবি জঙ্গলমহলের খবরের শিরোনাম হয়েছে, সেই ২০ সেপ্টেম্বরেই এ বার উৎসবের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং কুড়মালি ভাষা নিয়ে ঘোষণায় নতুন বার্তা পেল পুরুলিয়া। আর সেই ঘোষণার পর হাততালিতে মুখর কড়াডি যেন জানিয়ে দিল উৎসবের মঞ্চেও এ বার দাবি শোনা যাচ্ছে জোর গলায়।





