নন্দীগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বরঃ নন্দীগ্রাম যেন আচমকাই বঙ্গ কংগ্রেসের ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছে। এক দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচমকা সমর্থন, অন্য দিকে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতারি। উপনির্বাচনের অঙ্ক ছাপিয়ে তাই নন্দীগ্রামকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় রাজনৈতিক পরিসর। প্রদেশ কংগ্রেসের পাশাপাশি দিল্লির নেতৃত্বও এই ঘটনাকে সামনে রেখে বাংলায় দলের রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুন করে জানান দিতে চাইছে।
মিলনের গ্রেফতারিকে ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে তুলে ধরেছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। শনিবার সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। তাঁর অভিযোগ, মিলনের গ্রেফতারি ‘ভোটচুরির নির্লজ্জ চেষ্টা’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘গণতন্ত্রের জননী’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বাংলায় বিজেপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এর আগে একই ঘটনায় সরব হয়েছিলেন রাহুল গান্ধীও।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, বিষয়টি শুধু এক্স-এ পোস্ট বা বিবৃতির মধ্যে আটকে রাখতে চাইছে না এআইসিসি।নন্দীগ্রামকে সামনে রেখে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতিও চলছে। প্রার্থীর জামিনের জন্য আইনি সহায়তা থেকে শুরু করে প্রচারে জাতীয় স্তরের পরিচিত মুখকে নামানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। তমলুক আদালতে মিলনের জামিন না হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। প্রয়োজনে দিল্লি থেকে আইনজীবী পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছে প্রদেশ নেতৃত্বকে।
তবে কংগ্রেসের লক্ষ্য নন্দীগ্রামে শুধু জয় নয় বরং ভোটের শতাংশ বাড়ানো এবং বাংলার রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থানকে ফের দৃশ্যমান করা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের ভোট ছিল অত্যন্ত কম। সেই জায়গা থেকে উপনির্বাচনকে সংগঠন চাঙ্গা করার মঞ্চ হিসাবেও দেখছে হাত শিবির।
আর এখানেই এসে পড়ছে ২০২৯-এর হিসাব। বাংলায় বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসাবে নিজেদের তুলে ধরার যে জাতীয় পরিকল্পনা কংগ্রেসের, নন্দীগ্রাম সেই প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে। যদিও তা কতটা ভোটে প্রতিফলিত হয়, তা বলবে ৬ অক্টোবরের ফলাফল।
এর পাশাপাশি মমতার তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও সাবধানে পা ফেলছে কংগ্রেস। তৃণমূলের প্রতীক সংক্রান্ত লড়াইয়ে আইনি সহায়তার প্রশ্নে কংগ্রেসের ইতিবাচক মনোভাব থাকলেও সরাসরি জোটের প্রস্তাব দেওয়ার পথে আপাতত হাঁটতে চাইছে না প্রদেশ নেতৃত্ব। নিচুতলার কর্মীদের আপত্তির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে তৃণমূলের তরফে প্রস্তাব এলে তা নিয়ে আলোচনার দরজা খোলা থাকতে পারে।
অর্থাৎ, নন্দীগ্রামের ভোট এখন শুধু একটি উপনির্বাচন নয়। কংগ্রেসের কাছে এটি বাংলায় নিজেদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফেরানোর পরীক্ষাও।





