কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বরঃ দু’বছর পেরিয়ে গিয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে সঞ্জয় রাইয়ের। তবু অভয়া কাণ্ডের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন থামছে না। বরং নতুন করে জমা পড়া চার্জশিটও সন্তুষ্ট করতে পারেনি অভয়ার পরিবারকে। মেয়ে সুবিচার পাবে এই আশায় রাজনীতিতে পা রাখা অভয়ার মা রত্না দেবনাথের কথায় সেই হতাশাই স্পষ্ট। তাঁর দাবি, ‘‘এই চার্জশিটে কিছুই নেই। দু’বছর ধরে এটাই দেখছি।’’
২০২৪-এর ৯ আগস্ট। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্তব্যরত তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা সামনে আসতেই উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা রাজ্য। ঘটনার পরের দিনই সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রাইকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। সঞ্জয়কে গ্রেফতার ও বিচারপ্রক্রিয়ার পরও পরিবারের তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, ঘটনার পিছনে আরও কেউ বা কারা থাকতে পারে। তাঁদের বক্তব্য ছিল, যে ধরনের নৃশংসতার অভিযোগ উঠেছে, তা এক জনের পক্ষে করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন।
কিন্তু সময় গড়ালেও তদন্তে আর কোনও গ্রেফতারির খবর সামনে আসেনি। পরিবারের প্রশ্নও তাই রয়ে গিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার লক্ষ্যেই বিজেপিতে যোগ দেন রত্না। তখনও তিনি জানিয়েছিলেন, মেয়ের সুবিচারের দাবিই তাঁকে রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করেছে। বর্তমানে তিনি পানিহাটির বিধায়ক।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার শিয়ালদহ আদালতে আর জি কর মামলায় ১৩তম স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীর বক্তব্য, নথি, সিসিটিভি ফুটেজ, মেডিক্যাল ও ফরেনসিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হয়েছে। এমনকি নির্যাতিতার দেহ যে শ্মশানে দাহ করা হয়েছিল, সেখানেও তদন্ত করেছে সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল। পরিবারের তরফে যে বিষয়গুলি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, সেগুলিও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। তবে কিছু বিষয়ে তদন্ত এখনও বাকি।
সেই ব্যাখ্যাতেও অবশ্য সন্তুষ্ট নন রত্না। তাঁর কথায়, ‘‘এই চার্জশিট দু’বছর ধরে দেখছি। কিছুই হল না।’’ যদিও তদন্তের উপর পুরোপুরি আস্থা হারাননি তিনি। নতুন করে স্বাস্থ্য দফতরের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর সংযোজন, ‘‘দেখা যাক কী হয়।’’
অর্থাৎ, আদালতের রায় হয়ে গেলেও পরিবারের কাছে শেষ হয়নি অপেক্ষা। সঞ্জয় রাইয়ের সাজা এক প্রশ্নের আইনি নিষ্পত্তি করলেও, তদন্তে আরও কোনও তথ্য সামনে আসে কি না সেই অপেক্ষাতেই অভয়ার পরিবার।





