কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বরঃ প্রতীক নিয়ে টানাপড়েন চলছে। আদালতে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও মামলা। তার মধ্যেই উপনির্বাচনের ময়দানে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিল ঋতপন্থী তৃণমূল। সোমবার সন্ধ্যায় নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল তারা। নন্দীগ্রামে মহম্মদ সামিউল হক এবং রেজিনগরে সফিউজ্জমান শেখকে প্রার্থী করা হয়েছে।
ফলে উপনির্বাচনের লড়াই আরও বহুমাত্রিক হল। এক দিকে বিজেপি, অন্য দিকে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল, তার পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। ভোট ভাগাভাগির অঙ্কে কোন শিবির কতটা সুবিধা পাবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই দুই কেন্দ্রে বিজেপির সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই তৃণমূলের ‘ঘরের লড়াই’ও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির এবং ঋতপন্থী তৃণমূলের টানাপড়েন ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দরজায় পৌঁছেছে। দুই পক্ষই নিজেদের দাবির সমর্থনে কাগজপত্র ও বক্তব্য জমা দিয়েছে। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আদালতে মামলা চলছে। ফলে উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা শুধু ভোটের অঙ্ক নয়, দুই শিবিরের সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষাও হয়ে উঠছে।
এর আগে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা ছিল, নন্দীগ্রামে মমতা নিজে প্রার্থী হতে পারেন। ঋতপন্থী তৃণমূলও জানিয়েছিল, মমতা নন্দীগ্রামে দাঁড়ালে তারা প্রার্থী দেবে না। শেষ পর্যন্ত মমতা প্রার্থী না হওয়ায় সেই অবস্থান থেকে সরে এসে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করল ঋতব্রত শিবির।
এখন নজর ভোটের ময়দানে। তৃণমূলের পরিচিত ভোটব্যাঙ্ক কতটা ভাগ হয়, দুই শিবিরের মধ্যে কার সংগঠন কতটা কার্যকর হয় এবং সেই বিভাজনের ফায়দা বিজেপি নিতে পারে কি না নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে সেই অঙ্কই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে চলেছে।





