কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বরঃ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসা। জঙ্গলমহলে সশস্ত্র আন্দোলনের দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি টেনে জঙ্গল ছাড়লেন সিপিআই (মাওবাদী)-র অন্যতম শীর্ষ নেতা আকাশ ওরফে অসীম মণ্ডল। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পরিস্থিতির চাপে নিজের হাতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সামরিক বাহিনী ভেঙে দিয়েছেন ৬৪ বছরের এই মাওবাদী নেতা। ‘মনোজ’ নাম নিয়ে নতুন করে সংগঠন সাজানোর পরিকল্পনাও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রায় আড়াই দশক ধরে জঙ্গলে সক্রিয় আকাশকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলা-ঝাড়খণ্ড পুলিশের নজরদারি ছিল। একাধিক অভিযানে তাঁর স্কোয়াডের সদস্যদের মৃত্যু, গ্রেপ্তার এবং আত্মসমর্পণের পর সংগঠন কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ছিল। সেই পরিস্থিতিতেই সামরিক স্কোয়াড ভেঙে সহযোদ্ধাদের আলাদা পথে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি এমনটাই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
গোয়েন্দাদের দাবি, গত ১৩-১৪ অগস্ট পুরুলিয়া সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডের দলমা রেঞ্জের জঙ্গল থেকে সাধারণ পোশাকে বেরিয়ে যান আকাশ। তাঁর শারীরিক অবস্থাও ভাল নয় বলে খবর। উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি বয়সজনিত কারণে দীর্ঘ পথ পাহাড়-জঙ্গল পেরিয়ে চলাফেরাও কঠিন হয়ে উঠছিল। ফলে অস্ত্র ছেড়ে শহরের দিকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পিছনে শারীরিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ৪ অগস্ট দলমা পাহাড় এলাকায় চার মাওবাদী গ্রেপ্তার হওয়ার সময় আকাশ-সহ আরও কয়েক জন কাছাকাছি একটি ডেরায় ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পরে প্রায় দু’হাজার বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেললেও কৌশলে ঘেরাটোপ এড়িয়ে বেরিয়ে যায় তাঁর দল। সপ্তাহখানেক পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্কোয়াড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আকাশ।
১৯৮০-র দশকে কলেজজীবন থেকেই অতিবাম আন্দোলনে যুক্ত আকাশ। ২০১১ সালে কিষেনজির মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী সংগঠনের দায়িত্বে আসেন তিনি। দীর্ঘদিন ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম ও পরে পশ্চিম সিংভূমের সারান্ডা জঙ্গলে সংগঠন ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়েছেন।
এখন অবশ্য তাঁর সামনে অন্য প্রশ্ন আত্মসমর্পণ নয়, শহরে থেকেই কি নতুন ছকে সংগঠন গড়ার চেষ্টা করবেন তিনি? পুলিশের হাতে থাকা তথ্য বলছে, আপাতত জঙ্গল ছেড়েছেন ঠিকই, কিন্তু লড়াইয়ের ইতি টেনেছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।





