কলকাতা, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল কি এ বার প্রকাশ্যে বিস্ফোরণের চেহারা নিল? বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘সই জাল’-এর অভিযোগ তুললেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। শুধু অভিযোগেই থামেননি তিনি। শোভনদেবকে ‘হ্যাংলা’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি, তৃণমূলে বর্তমান ভাঙনের নেপথ্যেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছেন মদন।
বিরোধী দলনেতা নির্বাচন প্রসঙ্গে শোভনদেবের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মদন। তাঁর দাবি, বিরোধী দলনেতা হওয়ার জন্য বিধায়কদের সই জাল করা হয়েছিল। কেন সেই বিষয়টি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেনে নিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে মদনের বক্তব্য, “শুধু চোখের জল ফেলে কেন সহ্য করলেন উনি?” এর পরেই নাম না করে শোভনদেবকে আক্রমণ করে বলেন, তাঁর বাড়ির পাশেই এক ‘বয়স্ক ভদ্রলোক’ থাকেন, যিনি ১৯৭২ সালে বার্লিন গিয়েছিলেন। মদনের দাবি, সেই ব্যক্তিই বিরোধী দলনেতা হওয়ার জন্য “সব সই জাল” করেছিলেন। তাঁর কটাক্ষ, “এত হ্যাংলা?”
এর পরেই অবশ্য আর রাখঢাক রাখেননি কামারহাটির বিধায়ক। সরাসরি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম করে তৃণমূলের অন্দরের টানাপড়েনের জন্য তাঁকেই দায়ী করার চেষ্টা করেন। মদনের দাবি, তদন্ত হলে গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আসবে।
তবে এই অভিযোগের সূত্রপাত বেশ কয়েক মাস আগে। ভোটের ফল ঘোষণার পর ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন মমতা। সেখানেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেবের নাম প্রস্তাব করা হয় বলে জানা যায়। উপস্থিত বিধায়কেরা হাত তুলে সেই প্রস্তাবে সমর্থনও জানান।
কিন্তু বিধানসভায় জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবপত্র তখন দেওয়া হয়নি। ১৩ ও ১৪ মে বিধায়কদের শপথগ্রহণের পর নিয়ম মেনে তাঁদের সই নেওয়া হয়। পরে বিরোধী দলনেতার নাম-সহ প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয়। উপস্থিত বিধায়কদের সই নেওয়ার পাশাপাশি কারা অনুপস্থিত ছিলেন, তাও মিলিয়ে দেখা হয়।
এর পর বিধানসভায় তৃণমূলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার পক্ষে ৭০ জন বিধায়কের সই-সহ একটি কাগজ জমা পড়ে। কিন্তু সেখানেই দেখা দেয় বিতর্ক। বিধায়কদের অন্যত্র দেওয়া সইয়ের সঙ্গে জমা পড়া নথির সইয়ে অসঙ্গতি রয়েছে বলে সন্দেহ তৈরি হয় বিধানসভা সচিবের। বিষয়টি গড়ায় থানায়। দায়ের হয় এফআইআর। তদন্তভার পায় সিআইডি।
ইতিমধ্যে একাধিক বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ অংশের অভিযোগের তির ছিল দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেও।
সেই পুরনো বিতর্কই এ বার নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেল মদন মিত্রের মন্তব্যে। ‘সই জাল’ থেকে দল ভাঙন তাঁর অভিযোগের নিশানায় শোভনদেব। আর সেই অভিযোগের পাল্টা প্রতিক্রিয়া কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





