কলকাতা, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ কাগজপত্রে অনুমোদন নেই। কোথাও আবার পরিকাঠামো নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। রাজ্যের মাদ্রাসাগুলির বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে এ বার বড়সড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রথম দফায় ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের নোটিস জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই ‘খারিজি মাদ্রাসা’ বলে জানা গিয়েছে।
কেন এই পদক্ষেপ? প্রশাসনের বক্তব্য, রাজ্যের কোথায় কতগুলি অনুমোদিত এবং অনুমোদনহীন মাদ্রাসা রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতেই শুরু হয়েছিল সমীক্ষা। গত ২২ জুলাই কলকাতা-সহ সমস্ত জেলায় মাদ্রাসাগুলিতে সেই যাচাই চালায় সংখ্যালঘু এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর। প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো, পাঠক্রম, পড়ুয়ার সংখ্যা-সহ বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হয়।
সেই সমীক্ষাতেই উঠে আসে, রাজ্যে প্রায় ২,৩৯৬টি মাদ্রাসার সরকারি অনুমোদন নেই। এর পরেই ধাপে ধাপে পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয় দফতর। প্রথম পর্যায়ে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে নোটিসের প্রতিলিপি।
শুধু বন্ধের নোটিস নয়, আরও একশোটি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিস বা শোকজ করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, এই প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামো নিয়েও একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। নিজেদের অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে সন্তোষজনক ভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধেও পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে।
সরকারি সূত্রে দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই রাজ্যে অনুমোদিত ও অনুমোদনহীন মাদ্রাসার সংখ্যা এবং পরিকাঠামো যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়। সেই নির্দেশের পরেই জেলায় জেলায় শুরু হয় নথি সংগ্রহ ও পরিদর্শন।
সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর বক্তব্য, কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের ২২টি জেলা থেকেই মাদ্রাসাগুলির নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, যেসব প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন রয়েছে, সেগুলি নিয়ম মেনেই চালু থাকবে।
এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দাবি, মাদ্রাসা নিয়ে অতীতে একাধিক অভিযোগ এসেছে এবং তার তদন্ত চলছে। তাঁর বক্তব্য, সরকারি অনুমোদন নিয়ে যে প্রতিষ্ঠানগুলি চলছে, সেগুলি চলবে। কিন্তু অনুমতি ছাড়া “যেখানে সেখানে মাদ্রাসা খুলে” প্রতিষ্ঠান চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।
তবে ২৫২টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্তের পর স্বাভাবিক ভাবেই সামনে এসেছে আরও কয়েকটি প্রশ্ন এই মাদ্রাসাগুলিতে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ কী হবে? বন্ধের আগে তাঁদের অন্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে কি না, তা নিয়েও নজর থাকবে। কারণ, প্রশাসনের কাছে বিষয়টি যেমন অনুমোদন ও পরিকাঠামোর, তেমনই কয়েক হাজার পড়ুয়ার শিক্ষাজীবনের সঙ্গেও জড়িয়ে।





