কলকাতা, ১১ সেপ্টেম্বরঃ দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার। তার পর ভবানী ভবনে সিআইডি হেফাজতে প্রথম রাত। কিন্তু সেই রাত নাকি ঘুমহীনই কাটল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের। সূত্রের খবর, গভীর রাত পর্যন্ত পায়চারি করেছেন তিনি। চোখে-মুখে ছিল উদ্বেগের ছাপ। শুক্রবার সকালে চা-বিস্কুট খাওয়ার পরই তাঁকে নিয়ে মেদিনীপুরের উদ্দেশে রওনা দেন সিআইডি আধিকারিকেরা।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট রক্ষাকবচ খারিজ করার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি ঘিরে ফেলে সিআইডি। সেখান থেকেই জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিতকে গ্রেপ্তার করা হয়। শারীরিক পরীক্ষা শেষে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ভবানী ভবনে। শুরু হয় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ।
তদন্তকারীদের মূল প্রশ্ন ঘুরেছে জমি দুর্নীতির আর্থিক লেনদেন ঘিরে। দুর্নীতির টাকা কোন পথে গিয়েছে, কার মাধ্যমে তা সরানো হয়েছে, হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার হয়েছিল কি না এমন একাধিক বিষয় নিয়ে সুমিতকে প্রশ্ন করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তবে তদন্তকারীদের বক্তব্য, জেরায় সহযোগিতা করেননি তিনি। তাঁদের সন্দেহ, তদন্তের গতিপথ ঘোরাতে কিংবা কাউকে আড়াল করতে তথ্য গোপন করছেন সুমিত।
রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত চলে জেরা। খাওয়া-দাওয়া করলেও ঘুম আসেনি বলে জানা গিয়েছে। ভোরের দিকে তাঁকে দেওয়া হয় চা-বিস্কুট। তার পরেই মেদিনীপুর আদালতের উদ্দেশে রওনা দেয় সিআইডির দল। শুক্রবার বেলা ৩টে নাগাদ তাঁকে আদালতে পেশ করার কথা।
এ দিকে তদন্ত যত এগোচ্ছে, জমি দুর্নীতির পরিধি নিয়েও ততই প্রশ্ন উঠছে। তদন্তকারীদের একাংশের অনুমান, এত বড় মাপের দুর্নীতি প্রশাসনিক স্তরের একাংশের যোগসাজশ ছাড়া সম্ভব নয়। সেই সময়ের প্রশাসনিক আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার চেষ্টাও চলছে বলে সূত্রের খবর।
পাশাপাশি, এই মামলায় কয়েকশো কোটি টাকার লেনদেনের সূত্র খুঁজছে ইডিও এমনটাই জানা গিয়েছে। ফলে সুমিতের গ্রেপ্তারির পর তদন্ত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, নজর সে দিকেই।





