কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর: নন্দীগ্রাম কি আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চ হতে চলেছে? নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বঙ্গ রাজনীতিতে। বিশেষ করে হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রামকে ঘিরে কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। সেই জল্পনায় আরও ইন্ধন পড়েছে মমতা নিজেই নন্দীগ্রামে প্রার্থী হতে পারেন এই সম্ভাবনাকে ঘিরে।
বৃহস্পতিবার সকালে সেই প্রসঙ্গেই মমতাকে খোঁচা দিতে ছাড়লেন না বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘নন্দীগ্রামে উনি আগেও হেরেছেন। ভবানীপুরেও হেরেছেন। আর কোথায় কোথায় গিয়ে হারতে চান, সেটা ওঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। উনিই এটা ভাল বলতে পারবেন।’’
দিলীপের মন্তব্যের পাল্টা জবাব এসেছে তৃণমূলের মমতাপন্থী শিবির থেকেও। দলের কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘আমাদের দল কাকে প্রার্থী করবে বা না করবে, তা নিয়ে আমাদের ভাবতে দিন। ওঁকে অহেতুক চিন্তাভাবনা করতে হবে না।’’
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকেই লড়েছিলেন মমতা। বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর ভবানীপুরে উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় ফিরেছিলেন তিনি। ফলে নন্দীগ্রামকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হওয়া জল্পনার রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়।
তবে শুধু প্রার্থী বাছাই নয়, নন্দীগ্রামে এ বার আরও বড় প্রশ্ন জোড়াফুল প্রতীক নিয়েও। তৃণমূলের দুই শিবির কালীঘাট এবং ঋতব্রতপন্থীদের মধ্যে প্রতীক নিয়ে টানাপড়েন চলছে। ১২ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষকেই দিল্লিতে তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।
ঋতব্রত শিবিরের তরফে ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত মিলেছে, মমতা নন্দীগ্রামে প্রার্থী হলে তাঁরা পৃথক প্রার্থী নাও দিতে পারেন। ফলে উপনির্বাচনের দিন যত এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে অঙ্ক। মমতা কি সত্যিই নন্দীগ্রামে ফিরবেন, নাকি শেষ পর্যন্ত অন্য কাউকে প্রার্থী করবে কালীঘাট উত্তর মিলবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই। তার আগে অবশ্য নজর ১২ সেপ্টেম্বরের কমিশনের শুনানিতে।





