কলকাতা, ৮ সেপ্টেম্বরঃ দুর্গাপুজোয় বাঙালির পাতে মাছ-মাংস থাকবে, না কি নিরামিষেই সীমাবদ্ধ থাকবে তা নিয়ে বিতর্ক এবার পৌঁছল থানার দরজায়। মধ্যপ্রদেশের সাধু বাগেশ্বর বাবা ওরফে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভবানীপুর থানায় এফআইআর দায়ের করল প্রদেশ কংগ্রেস। অভিযোগ দায়ের করেছেন মধ্য কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি তথা ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে চৌরঙ্গির প্রার্থী মানস সরকার।
দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি তথা ভবানীপুরের প্রার্থী প্রদীপ প্রসাদের অভিযোগ, বাংলায় এসে বাঙালির সংস্কৃতি এবং দুর্গাপুজোর রীতিনীতি নিয়ে ‘জ্ঞান’ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর কথায়, ‘‘বাঙালি কী ভাবে দুর্গাপুজো করবে, কী খাবে তা বাইরে থেকে কেউ ঠিক করে দিতে পারেন না।’’ সেই মন্তব্যেরই প্রতিবাদে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।
এফআইআরের কপিতে বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের একাধিক অংশ উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘পাখণ্ডী’, ‘গন্দা গন্দা কুকিং’-এর মতো শব্দপ্রয়োগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, পুজোর সময়ে মাছ-মাংস খাওয়া বাঙালিদের ‘ভণ্ড’ বলে আক্রমণ করে আসলে বাংলার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতিকেই অপমান করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হাওড়ায় আয়োজিত ‘হনুমান কথা’ অনুষ্ঠানকে ঘিরে। সেখানে বাগেশ্বর বাবা বলেন, দুর্গাপুজোর সময়ে যাঁরা মাছ-মাংস খান, তাঁরা প্রকৃত ধার্মিক নন। পুজোর দিনগুলিতে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। সেই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সমাজমাধ্যম থেকে রাজনৈতিক মহল সর্বত্র শুরু হয়েছে বিতর্ক।
মঙ্গলবার ভবানীপুর থানার সামনেও বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকেরা। রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয় মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেই এই অভিযোগ দায়ের হওয়ায় বিষয়টি আরও নজর কেড়েছে।
তবে এই বিতর্কে বিজেপির একাংশ অবশ্য বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত হয়নি। দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্যদের বক্তব্য, বাঙালি যে ভাবে বছরের পর বছর দুর্গাপুজো পালন করে আসছেন, এ বারও সেই ভাবেই করবেন। কে মাছ-মাংস খাবেন, আর কে নিরামিষ খাবেন সেটি একান্তই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। দুর্গাপুজোর আগে সেই ‘পছন্দ’-এর প্রশ্নই এখন গড়িয়েছে থানার দরজায়।





