ফারাক্কা, ৬ সেপ্টেম্বরঃ প্রায় ৬২ ঘণ্টার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতির পর অবশেষে নিউ ফরাক্কায় ফের শুরু হল যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ মেরামত করা নতুন লাইনের উপর দিয়ে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন হিসেবে ছুটল হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। আপাতত অবশ্য সতর্কতার কারণেই নিয়ন্ত্রিত গতিতে ট্রেন চালানো হচ্ছে। দীর্ঘ রেল-বিভ্রাটের পর বন্দে ভারত গড়াতেই স্বস্তি ফিরল যাত্রী ও রেল প্রশাসনের অন্দরে।
বুধবার গভীর রাত থেকে নিউ ফরাক্কা এলাকায় আপ লাইনে ভূমিধসের জেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল রেল যোগাযোগ। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে কার্যত ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল রেল সংযোগ। একের পর এক ট্রেন বাতিল, ঘুরপথে পরিষেবা এবং দীর্ঘ বিলম্বে চরম দুর্ভোগে পড়েন কয়েক হাজার যাত্রী। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত মেরামতির কাজে নামে পূর্ব রেল।
শনিবার থেকেই কাজের গতি আরও বাড়ানো হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে। রেলকর্মীদের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি তাঁদের উৎসাহ দেন তিনি। রেল সূত্রে খবর, ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতি শেষ হওয়ার পর নতুন লাইনে ওভারহেড বৈদ্যুতিক সংযোগও দেওয়া হয়।
তবে মেরামতি শেষ হলেই ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর পথে হাঁটেনি রেল। প্রথমে নতুন লাইনে পরীক্ষামূলক ভাবে মালগাড়ি চালিয়ে ট্র্যাকের পরিস্থিতি যাচাই করা হয়। রাতের দিকে ফরাক্কায় ফের বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নিরাপত্তার প্রশ্নে আরও সতর্ক হয় প্রশাসন। ফলে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত কিছুটা পিছিয়ে যায়।
এদিকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নিউ ফরাক্কার ডাউনের দুটি লাইন ব্যবহার করে আপ ও ডাউন দুই দিকের ট্রেন চালানো হচ্ছিল। তাতে পরিষেবা সচল থাকলেও একাধিক ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলছিল।
রবিবার বন্দে ভারত নিরাপদে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পার হওয়ার পর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। আপাতত ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার গতিতে ওই অংশ পার করছে ট্রেন। রেলকর্মীদের দাবি, বন্দে ভারত যাওয়ার পর লাইনে কোনও অস্বাভাবিকতা নজরে আসেনি।
পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, রবিবার রাত থেকে দূরপাল্লার ট্রেনগুলি নতুন লাইনে চলবে এবং কোনও ট্রেন বাতিল করার পরিকল্পনা নেই। তবে মাটি ও রেললাইনের পরিস্থিতির উপর নজর রেখে ধাপে ধাপে গতি স্বাভাবিক করা হবে।
দীর্ঘ বিপর্যয়ের পর রেল পরিষেবা ফের ছন্দে ফেরার পথে। এখন নজর একটাই মেরামত করা লাইনে নিরাপত্তা বজায় রেখে কত দ্রুত উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা যায়।





