কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বরঃ নিয়োগ দুর্নীতির অভিঘাত কাটিয়ে রাজ্যের স্কুলশিক্ষাকে ফের ‘প্রথম সারিতে’ নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে সেই লক্ষ্যেই একগুচ্ছ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের আশ্বাসের পাশাপাশি পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুললেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, স্কুলের পরিকাঠামো, সিলেবাস সংস্কার এবং জাতীয় শিক্ষানীতির প্রসঙ্গও।
নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিদ্যাসাগর শিক্ষক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেল শিক্ষক নিয়োগ। অতীতের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, স্কুল সার্ভিস কমিশনকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, মৌখিক পরীক্ষায় পাঁচ নম্বরের বেশি রাখা যাবে না।
তৃণমূল আমলে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগকে সামনে এনে বিজেপি সরকার যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেতে চাইছে, সেই বার্তাও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘শিক্ষক নিয়োগ করে দেব, নিশ্চিন্তে থাকুন।’’ তবে একই সঙ্গে জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট এবং হাই কোর্টের নির্দেশ মেনেই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ফলে নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা এড়িয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো নিয়েও পূর্ববর্তী সরকারকে নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, অন্য নানা খাতে অর্থ ব্যয় হলেও শিক্ষাক্ষেত্রে তিন বছর ‘কম্পোজিট গ্র্যান্ট’ আটকে রাখা হয়েছিল। জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর না করা এবং স্কুলশিক্ষায় প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
শুধু নিয়োগ বা পরিকাঠামো নয়, স্কুলের পাঠ্যক্রম নিয়েও বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সিলেবাসে রাজনৈতিক ঘটনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও স্বাধীনতা আন্দোলনের একাধিক ব্যক্তিত্ব ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের যথাযথ জায়গা হয়নি। স্বামী প্রণবানন্দ এবং মাতঙ্গিনী হাজরার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পরবর্তী প্রজন্মকে বাংলার ইতিহাস কী ভাবে জানানো হবে।
এনসিসি তুলে দেওয়া এবং খেলাধুলায় নজর না দেওয়ার অভিযোগও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও দেশাত্মবোধের পরিবেশও জরুরি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক অভিযোগগুলির পালটা বক্তব্য তৃণমূলের তরফে কী আসে, সেদিকেও নজর রয়েছে।
নিয়োগ দুর্নীতির জেরে ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের ঘটনাও এখনও রাজ্যের শিক্ষা প্রশাসনে বড় নজির। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ, মেধাতালিকা, যাচাই প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাই হতে চলেছে মূল পরীক্ষা। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাইরে বাস্তবে সেই নিয়োগ কতটা দ্রুত ও নির্ভুল ভাবে সম্পন্ন হয়, এখন নজর সেদিকেই।





