নয়াদিল্লী, ৫ সেপ্টেম্বরঃ দীর্ঘ বিতর্ক, রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং জমি বাছাইয়ের পর অবশেষে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ চূড়ান্ত করল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। দিল্লির রাজঘাট সংলগ্ন এলাকাতেই তৈরি হবে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিসৌধ। সূত্রের খবর, গত ২৫ আগস্ট সেই নির্মাণ পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় গণপূর্ত দপ্তর (সিপিডব্লিউডি)। ফলে দ্রুতই নির্মাণকাজ শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্রয়াত হন মনমোহন সিং। তাঁর শেষকৃত্যের স্থান এবং পরবর্তী সময়ে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জমি নির্ধারণ নিয়ে অবশ্য শুরু থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা অনুযায়ী রাজঘাটের কাছাকাছি তাঁর স্মৃতিসৌধের জন্য জমি নির্দিষ্ট করা উচিত। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে চিঠিও দেন।
পরবর্তী সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজঘাট সংলগ্ন এলাকায় স্মৃতিসৌধের জন্য জমি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে শেষকৃত্যের জন্য সেই জমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। মনমোহন সিংয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় নিগমবোধ ঘাটে। বিষয়টি নিয়েও তৎকালীন সময়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীও প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন।
এরপর যমুনার ধারে রাজঘাট, রাষ্ট্রীয় স্মৃতি স্থল এবং কিসান ঘাট এলাকায় প্রায় এক থেকে দেড় একর করে তিনটি জমি প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়। শেষ পর্যন্ত রাজঘাটের কাছে, নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী ও সঞ্জয় গান্ধীর স্মৃতিসৌধের সংলগ্ন একটি জমি বেছে নেয় মনমোহন সিংয়ের পরিবার।
স্মৃতিসৌধের নকশা ও পরিকল্পনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিল্লির আর্ট কাউন্সিলকে। প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী, রাজঘাট এলাকার সামগ্রিক স্থাপত্য-পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নির্মাণ করতে হবে নতুন স্মৃতিসৌধ। বরাদ্দ জমিতে থাকা গাছপালাও যথাসম্ভব অক্ষত রাখতে হবে। অর্থাৎ স্মৃতিসৌধ নির্মাণে স্থাপত্যের পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্যও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত এই জমি বা নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন কোনও আইনি জটিলতার খবর নেই। তবে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে প্রকল্পটি কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। প্রশাসনের ছাড়পত্রের পর নির্মাণ শুরু হলে দীর্ঘ টানাপউতোরের অবসান ঘটিয়ে রাজঘাটের স্মৃতিসৌধ-পরিসরেই স্থায়ী জায়গা পেতে চলেছেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।





