কলাকাতা, ৪ সেপ্টেম্বরঃ ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই ভিতরে কী চলছে। অথচ অভিযোগ, সেই ফ্ল্যাট থেকেই ফোন যাচ্ছিল সুদূর আমেরিকায়। পরিচয় দেওয়া হচ্ছিল ‘পেপাল’-এর কর্মী হিসাবে। তার পর রিমোট অ্যাক্সেসের ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কলকাতায় ফের এমনই এক সাইবার প্রতারণা চক্রের হদিস পেল পুলিশ।
বেনিয়াপুকুর লেনের একটি ফ্ল্যাটে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতেরা হলেন মহম্মদ আনাস, আয়ান হোসেন এবং সৈয়দ জায়েদ। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ফ্ল্যাটে বেআইনি ভাবে একটি কল সেন্টার চালানো হচ্ছিল। সেখান থেকেই মার্কিন নাগরিকদের টার্গেট করে প্রতারণা চালানো হত।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে ভিওআইপি কলের মাধ্যমে ‘পেপাল’-এর প্রতিনিধি পরিচয়ে যোগাযোগ করতেন অভিযুক্তরা। কোনও সমস্যা হয়েছে বলে বিশ্বাস করানোর পর নির্দিষ্ট রিমোট কম্পিউটার অ্যাক্সেস অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে বলা হত। সেই সুযোগেই টার্গেটের কম্পিউটার বা অন্য ডিভাইসে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করা হত। অভিযোগ, সেখান থেকে সংগ্রহ করা হত ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও বিভিন্ন শংসাপত্র।
এর পর সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হত বলে পুলিশের দাবি। নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কিংবা বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে প্রতারণার টাকা সরানো হত। অভিযানের সময় ফ্ল্যাট থেকে ৫টি মোবাইল ফোন, ৪টি ল্যাপটপ, একটি ট্যাব, ৬টি চেকবুক এবং নগদ ১০ লক্ষ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। মিলেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সন্দেহজনক নথিও।
এই চক্রের মাধ্যমে মোট কত টাকার প্রতারণা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে এই ‘ফেক কল সেন্টার’-এর নেপথ্যে আরও কেউ রয়েছে কি না, টাকার লেনদেনের সঙ্গে কারা যুক্ত, সেই সূত্রও খুঁজছে পুলিশ। ফ্ল্যাটের চার দেওয়ালের আড়ালে চলা প্রতারণার জাল কত দূর ছড়িয়েছে, এখন সেটাই তদন্তকারীদের কাছে বড় প্রশ্ন।





