খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২ সেপ্টেম্বরঃ একদিকে মন্দিরের অনুদান নিয়ে বিতর্ক, অন্য দিকে অনুদানের নামেই এমন চেক, যার অঙ্ক দেখে চোখ কপালে উঠবে! অযোধ্যার রাম মন্দিরে চার কোটি টাকার একটি চেক জমা দিয়েছিলেন কোয়েম্বাটুরের এক মহিলা। উদ্দেশ্য ছিল মন্দিরের কর্মীদের জন্য অনুদান দেওয়া। কিন্তু চেকটি ব্যাঙ্কে জমা দিতেই খুলল অন্য ছবি। যে অ্যাকাউন্ট থেকে চার কোটি টাকা দেওয়ার কথা, সেখানে পড়ে রয়েছে মাত্র তিন টাকা। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বাউন্স করল চেক। বিপাকে পড়ল মন্দির কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার সূত্রপাত ওই মহিলার অনুদানের ইচ্ছা থেকেই। রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের নামে চার কোটি টাকার চেক লিখে দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, মন্দিরের কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেই এই বিপুল অর্থ দিতে চান। তবে ট্রাস্টের তরফে তাঁকে জানানো হয়, কর্মীদের জন্য এ ভাবে আলাদা অনুদান নেওয়ার ব্যবস্থা নেই। তা সত্ত্বেও তিনি চার কোটি টাকার চেক দেন। পাশাপাশি মন্দিরে আলাদা করে ১০ হাজার টাকা অনুদানও দেন বলে জানা গিয়েছে।
এর পরেই চেকটি ব্যাঙ্কে জমা দেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। আর তখনই ধরা পড়ে আসল বিষয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চার কোটি তো দূরের কথা, ছিল মাত্র তিন টাকা। ফলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ‘ডিশঅনার’ বা বাউন্স হয়ে ফেরে। বিষয়টি সামনে আসতেই অনুদানের সেই বিশাল অঙ্ক নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
ভারতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকার কারণে চেক বাউন্সের ঘটনায় হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে শুধু চেক বাউন্স হলেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয় না। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া, নোটিস এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ হওয়ার পরেই বিষয়টি ফৌজদারি মামলার পর্যায়ে যেতে পারে। তাই ওই মহিলার ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কী ব্যবস্থা হবে, তা নির্ভর করবে ব্যাঙ্কের নোটিস, ট্রাস্টের পদক্ষেপ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার উপর।
জানা গিয়েছে, চেক বাউন্সের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক ওই মহিলাকে নোটিস পাঠিয়েছে। তবে তিনি কেন এমন চেক দিলেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। ভুল, অসাবধানতা নাকি ইচ্ছাকৃত ভাবে এমন চেক দেওয়া হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়।
রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কয়েক মাস আগে ভক্তদের অনুদানের বিপুল অর্থ চুরি যাওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি নিয়ে এফআইআর ও তদন্তের কথাও সামনে এসেছিল। পরে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয় এবং কয়েক জনের নাম তদন্তে উঠে আসে। তবে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কয়েক জনকে ওই ঘটনায় দায়মুক্ত করার কথাও জানানো হয়েছিল। ফলে সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই চার কোটির চেক বাউন্সের ঘটনা নতুন করে মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা উস্কে দিয়েছে।
মন্দিরে ভক্তের দান বিশ্বাসের জায়গা। সেখানে কোটি টাকার অনুদানের প্রতিশ্রুতি যদি শেষ পর্যন্ত মাত্র তিন টাকার ব্যাঙ্ক ব্যালান্সে গিয়ে ঠেকে, তা হলে প্রশ্ন শুধু ওই চেকদাতাকে ঘিরে নয় অনুদান গ্রহণ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কতটা কঠোর, সেই প্রশ্নও সামনে আসে।





