হাওড়া, ১ সেপ্টেম্বরঃ হাওড়া পুরভোটের দামামা এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে বাজেনি। তার আগেই প্রস্তুতিতে গতি আনল বিজেপি। কলকাতার পর এ বার হাওড়া পুরসভার জন্য আলাদা ঘোষণাপত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিল গেরুয়া শিবির। তবে দলের দাবি, এটি নিছক বিজেপির ইস্তেহার হবে না হাওড়ার মানুষের মতামত নিয়েই তৈরি হবে ‘জনতার ইস্তেহার’। শহরের বিশিষ্ট নাগরিকদের কাছে গিয়ে তাঁদের পরামর্শ সংগ্রহ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার হাওড়া জেলা বিজেপির ডাকা বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। পুরভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহার নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মণ্ডল সভাপতি এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। বৈঠক থেকেই পুরভোটের প্রস্তুতিতে একাধিক কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে।
রাহুলের বক্তব্য, হাওড়ার প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যা আলাদা করে চিহ্নিত করা হবে। কোন এলাকায় কী সমস্যা রয়েছে, কোথায় নাগরিক পরিষেবার ঘাটতি রয়েছে, কী ভাবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড পিছিয়ে রয়েছে সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হবে পৃথক ‘চার্জশিট’। তাঁর দাবি, সেই কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
শুধু দলের বক্তব্য নয়, শহরের বিশিষ্ট নাগরিকদের মতামতও ঘোষণাপত্রে জায়গা পাবে বলে জানিয়েছেন রাহুল। তাঁর কথায়, বিশিষ্টদের বাড়িতে গিয়ে আগামী দিনে হাওড়ার জন্য কী কী প্রয়োজন এবং ঘোষণাপত্রে কোন বিষয়গুলি রাখা উচিত, তা জানতে চাওয়া হবে। তাঁর দাবি, নাম বিজেপির ম্যানিফেস্টো হলেও কার্যত সেটি হবে মানুষের মতামতের প্রতিফলন।
ভোটের প্রস্তুতিতে সাংগঠনিক কাঠামোও গুছিয়ে নেওয়ার দাবি করেছে বিজেপি। ডিলিমিটেশনের পর হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বেড়ে ৬৮ হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ৬৮টি ওয়ার্ডে কমিটি এবং নির্বাচন কমিটি তৈরি করা হয়েছে।
রাহুলের বক্তব্য, ক্ষমতায় এলে হাওড়া পুরসভাকে ‘মডেল পুরসভা’ করার লক্ষ্য রয়েছে। ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ সরকারের স্লোগান সামনে রেখে নাগরিকদের কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনাও রয়েছে দলের। একই সঙ্গে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও পরিচিতি, ওয়ার্ড সম্পর্কে ধারণা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
পুরভোটের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে তার আগেই হাওড়ার অলিগলি, নাগরিক সমস্যা এবং মানুষের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রচারের মঞ্চ প্রস্তুত করতে শুরু করেছে বিজেপি।





