কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বরঃ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ শুধু প্রশাসন চালানো নয়, দলের ভাবমূর্তিও অটুট রাখা। এই আবহেই বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণ’ নিয়ে ফের সতর্কবার্তা এল আরএসএসের মুখপত্র ‘স্বস্তিকা’র সম্পাদকীয়তে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের আগের মন্তব্য এবং তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া কয়েক জন প্রাক্তন সাংসদকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে।
‘স্বস্তিকা’র সম্পাদকীয়তে বিজেপিকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, মানুষ ভরসা করে দলকে রাজ্যে ক্ষমতায় এনেছে। সেই আস্থায় কোনও ভাবে চিড় ধরলে তার রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সেখানে মত প্রকাশ করা হয়েছে। সম্পাদকীয়তে এমন আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়েছে যে, বিজেপিকে যদি পুরনো শাসকদলেরই ‘অন্য পিঠ’ বলে মনে করতে শুরু করেন ভোটারদের একটি অংশ, তা হলে দলের প্রতি জনসমর্থনে ধাক্কা আসতে পারে।
এরই মধ্যে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক রাজ্যসভার টিকিট পাওয়ায় ‘তৃণমূলীকরণ’ প্রসঙ্গটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের, তা নিয়ে দলের রাজ্য স্তরে প্রকাশ্যে কোনও আপত্তির কথা সামনে আসেনি।
তবে নিচুতলায় দলবদল করে আসা নেতা-কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে বিজেপির অন্দরেই যে আলোচনা রয়েছে, তা বিভিন্ন নেতার বক্তব্যে উঠে এসেছে। শমীকও এর আগে দলের মধ্যে ‘বেনোজল’ ঢোকার আশঙ্কা এবং নিচুতলায় তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে সতর্ক করেছিলেন।
‘স্বস্তিকা’র সম্পাদকীয়তে রাজ্যের পূর্বতন রাজনৈতিক পর্বের সমালোচনা করে সমাজবিরোধিতা এবং তোলাবাজির মতো অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে। ধানতলা, বানতলা, নেতাই, নন্দীগ্রাম, কেশপুর, মোথাবাড়ি, মুর্শিদাবাদ, সন্দেশখালি এবং আরজি করের মতো একাধিক ঘটনার উল্লেখ করে সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, অতীতে অভিযুক্তদের অনেকেই বিভিন্ন ভাবে রেহাই পেয়েছেন।
তবে সম্পাদকীয়র বক্তব্য রাজনৈতিক ও মতামতধর্মী। সেখানে উত্থাপিত অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি পৃথক। মূল বার্তাটি অবশ্য স্পষ্ট ক্ষমতায় আসার পর বিজেপিকে শুধু বিরোধীদের মোকাবিলা করলেই চলবে না, নিজেদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
‘স্বস্তিকা’র ভাষায়, এখন বিজেপির সামনে রাজনৈতিক ভাবে তুলনামূলক ভাবে খোলা জমি। কিন্তু সেই সুযোগের চেয়েও বড় হল জনগণের মুখোমুখি হওয়ার দায়। ফলে ক্ষমতার শুরুতেই দলের ভিতরে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং ভাবমূর্তি নিয়ে সতর্ক থাকার বার্তাই যেন আরও এক বার সামনে এল।





