কোচবিহার, ৩১ আগস্টঃ মোবাইলের পর্দায় আঙুলের ছোঁয়ায় এখন গোটা দুনিয়া হাতের মুঠোয়। খবর, বিনোদন থেকে পড়াশোনা সবই মিলছে কয়েক সেকেন্ডে। তবু বইয়ের পাতার গন্ধ, গ্রন্থাগারের নীরবতা এবং মন দিয়ে পড়ার অভ্যাসের কোনও বিকল্প নেই। সেই বার্তাই ফের সামনে এল ‘বই পড়ো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা বিভাগের সহযোগিতায় উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় গ্রন্থাগারে পালিত হল সাধারণ গ্রন্থাগার দিবস।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিধানসভার স্পিকার তথা কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্র বোস, সদর মহকুমাশাসক গোবিন্দ নন্দী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ছিলেন গ্রন্থাগারপ্রেমী এবং বইপড়ুয়াদেরও অনেকে। দিনভর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয় গ্রন্থাগার দিবস।
আলোচনায় উঠে আসে একটি পুরনো অথচ জরুরি প্রশ্ন পরিবারে বই পড়ার পরিবেশ কি ফিরছে? বক্তাদের বক্তব্য, শিশুর হাতে শুধু মোবাইল তুলে না দিয়ে বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করানো দরকার। কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের বইই অনেক সময় শিশুর কল্পনাশক্তি, যুক্তিবোধ এবং প্রশ্ন করার ক্ষমতা তৈরি করে। পরিবারে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে বৃহত্তর সমাজেও।
প্রশাসনের কাছেও গ্রন্থাগার শুধু বই রাখার জায়গা নয়। গ্রামীণ ও শহরতলির বহু পড়ুয়ার কাছে এটি এখনও জ্ঞান অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিসর। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা থেকে সাহিত্যচর্চা বিভিন্ন ক্ষেত্রেই গ্রন্থাগারের ভূমিকা রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে সেই পরিকাঠামোকে আরও সক্রিয় করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরেও শিক্ষিত, সচেতন সমাজ গঠনের বার্তা বার বার সামনে আসে। সেই লক্ষ্যেই গ্রন্থাগারকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিজিটাল যুগে বইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় গ্রন্থাগারের এই আয়োজন যেন অন্য কথাই বলল। প্রযুক্তি জ্ঞান পাওয়ার পথ সহজ করেছে, কিন্তু সেই জ্ঞানকে মনন ও বিবেচনায় রূপ দিতে এখনও বইয়ের প্রয়োজন। তাই ‘বই পড়ো, জীবন গড়ো’ স্লোগানটি আসলে শুধু একটি দিনের নয়, আগামী প্রজন্মের জন্যও এক সামাজিক আহ্বান।





