সিতাই, ৩১ আগস্টঃ নদীর জল শুকিয়েছে। বিস্তীর্ণ চর জুড়ে পলি আর বালির আস্তরণ। দূর থেকে দেখলে যেন অনাবাদি জমি। অথচ সেই চরেই লুকিয়ে বেড়ে উঠছিল নিষিদ্ধ গাঁজা গাছ। মাটির কাছ থেকে নজরদারি করে সবটা ধরা সম্ভব নয়। তাই এ বার আকাশে চোখ রাখল পুলিশ। ড্রোন উড়িয়ে নদীর চরে গাঁজা চাষের জমি চিহ্নিত করে অভিযান চালাল সিতাই থানার পুলিশ। সোমবার টাকিমারী এলাকায় সিঙ্গিমারী নদীর চরে এই অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নৌকায় করে নদী পেরিয়ে চরে পৌঁছন পুলিশকর্মীরা। তার পর ড্রোন উড়িয়ে শুরু হয় তল্লাশি। উপর থেকে নজরে আসে সন্দেহজনক জমি। চিহ্নিত এলাকার কাছে পৌঁছে দেখা যায়, সেখানে বেআইনি ভাবে গাঁজা চাষ করা হয়েছে। এর পর সেই জমিতে অভিযান চালিয়ে গাঁজা গাছগুলি নষ্ট করে দেয় পুলিশ।
গ্রামবাংলায় চাষাবাদ বহু পরিবারের জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন। কিন্তু বৈধ ফসলের তুলনায় কম সময়ে বেশি লাভের আশায় নিষিদ্ধ গাঁজা চাষের প্রবণতা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু জমির মালিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। জড়িয়ে পড়তে পারে পরিবারের তরুণ প্রজন্ম, বদলে যেতে পারে গ্রামের আর্থিক ও সামাজিক পরিবেশও। দ্রুত লাভের এই প্রলোভন তাই প্রশাসনের কাছে ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ।
গাঁজা চাষ বন্ধে প্রশাসনের তরফে বার বার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু নদীর চর, প্রত্যন্ত এলাকা কিংবা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা জমিতে নজরদারি করা সহজ নয়। সেই জায়গাতেই আধুনিক প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করছে পুলিশ। ড্রোনের নজর এড়ানো কঠিন। ফলে দুর্গম চর এলাকাতেও পৌঁছে যাচ্ছে প্রশাসনের ‘চোখ’।
রাজনৈতিক ভাবে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বার বারই কড়া বার্তা দিয়েছে সরকার ও প্রশাসন। বেআইনি চাষ এবং মাদক কারবারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর সেই নীতিরই প্রতিফলন দেখা গেল সিতাইয়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, একটি অভিযানেই কাজ শেষ নয়। নদীর চর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম সব জায়গাতেই নজরদারি বাড়ানো হবে। নিয়মিত অভিযান চলবে। প্রশ্ন শুধু কতগুলি গাছ নষ্ট হল, তা নয়। নদীর চরের মাটিতে বেআইনি চাষের যে শিকড় তৈরি হয়েছে, প্রশাসন কতটা গভীরে গিয়ে তা উপড়ে ফেলতে পারে, এখন সেটাই দেখার।





