আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

মেয়ের বিয়ে নিয়ে নীরব বাবা, ‘কন্যারত্নে’র টাকা চাইতেই ফাঁস হল গোপন বিয়ে

Published on: August 31, 2026
---Advertisement---

দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৩১ আগস্টঃ নিজের নাবালিকা মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। জানতেন বাবা। মেয়েও বাড়ি ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে সংসার করছে সেটাও অজানা ছিল না। কিন্তু দেড় মাস ধরে থানায় কোনও অভিযোগ করেননি। হঠাৎ মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি প্রকল্পের টাকা ঢুকতেই বদলে গেল ছবিটা। মেয়েকে বাড়ি ফেরানোর তাগিদ নয়, প্রতি মাসে সেই টাকা তাঁর চাই। আর সেই দাবিই শেষ পর্যন্ত ফাঁস করে দিল নাবালিকার বিয়ে। রবিবার হরিদেবপুর থানার পুলিশ নাবালিকাকে বিয়ে করার অভিযোগে তার স্বামী ও শাশুড়ির পাশাপাশি গ্রেফতার করেছে কিশোরীর বাবাকেও।

পুলিশ সূত্রে খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালির বাসিন্দা ওই কিশোরীর সঙ্গে হরিদেবপুরের এক তরুণের পরিচয় হয়। প্রায় দেড় মাস আগে ওই তরুণের সঙ্গে বাড়ি ছাড়ে কিশোরী। পরে বিয়ে করে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান ওই যুবক। মেয়েটির বয়স ১৮ হয়নি জেনেও তাঁকে বউ হিসাবে গ্রহণ করেন শাশুড়ি। চলতে থাকে সংসার।

এর মধ্যেই কিশোরীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পের টাকা পৌঁছয়। অভিযোগ, সেই খবর পেয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ফোন করেন বাবা। মেয়েকে বাড়ি ফিরতেই হবে এমন নয়, কিন্তু সরকারি প্রকল্পের টাকা নিয়মিত তাঁদের দিতে হবে এমনই দাবি করেন তিনি। মেয়েকেও ফোন করে চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু কিশোরী টাকা তুলতে বাপের বাড়ি ফিরতে অস্বীকার করে।

এর পরেই বাবার দ্বারস্থ হওয়া একটি এনজিও-র মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। হরিদেবপুর থানার পুলিশ শ্বশুরবাড়ি থেকে নাবালিকাকে উদ্ধার করে। নাবালিকাকে বিয়ে, অপহরণ এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় স্বামী ও শাশুড়িকে।

কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, ততই প্রশ্নের মুখে পড়েন মেয়েটির বাবা। মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি নোদাখালি থানায় কোনও অভিযোগ করেননি। এমনকি মেয়ের বিয়ের কথাও পুলিশকে জানাননি। অভিযোগ, দেড় মাস পরে সরকারি প্রকল্পের টাকা পাওয়ার জন্যই মেয়েকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেন তিনি। সেই কারণেই একই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকেও।

ঘটনাটি শুধু একটি নাবালিকার বিয়ের নয়। পরিবারের দায়িত্ববোধ, সামাজিক সচেতনতা এবং সরকারি প্রকল্পের উদ্দেশ্য নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। নাবালিকার ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য তৈরি প্রকল্পের টাকা যদি পরিবারের কাছে মেয়ের অধিকারের বদলে মাসিক আয়ের উৎস হয়ে ওঠে, তবে সেখানে বিপদ শুধু আইনের নয় মানসিকতারও।

প্রশাসনের তরফে কিশোরীকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে মেয়ের বিয়ে যখন হয়েছিল, তখন বাবা নীরব ছিলেন কেন? আর মেয়ের সুরক্ষার কথা মনে পড়ল শুধু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা আসার পর?

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment