সিতাই, ৩০ আগস্টঃ আশ্রমের অন্দরমহল। সেখানেই এক তরুণীর সঙ্গে সন্ন্যাসী মহারাজের ‘আপত্তিকর’ আচরণের অভিযোগ। তারই মধ্যে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়াল কোচবিহারের সিতাইয়ে। অভিযোগ ঘিরে রবিবার সকাল থেকে আশ্রমের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। উঠল অভিযুক্ত মহারাজকে গ্রেফতারের দাবি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত স্বামী জ্ঞানানন্দকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
সিতাইয়ের সালটিবাড়ি এলাকায় প্রায় এক দশক আগে তৈরি হয়েছিল স্বামীজির নামে ওই আশ্রম। সেখানে স্বামী জ্ঞানানন্দ-সহ কয়েক জন সন্ন্যাসী থাকেন। রয়েছেন আশ্রমিকও। স্থানীয় সূত্রে খবর, আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুদের আশ্রমে রেখে পড়াশোনার ব্যবস্থাও করা হয়। সেই আশ্রমের দৈনন্দিন কাজকর্মে মহারাজকে সাহায্য করার জন্য এক তরুণী সেখানে থাকতেন বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, সেই তরুণীর সঙ্গে আশ্রমের মধ্যেই ‘আপত্তিকর’ আচরণ করতেন জ্ঞানানন্দ। সম্প্রতি দু’জনের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই ভিডিয়ো ঘিরেই শুরু হয় তীব্র চাঞ্চল্য। যদিও ভাইরাল ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি খবরিয়া ২৪ নিউজ।
ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। রবিবার সকালে এক দল মানুষ আশ্রমের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের দাবি, আশ্রমের মতো জায়গায় এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হোক। একই সঙ্গে অভিযুক্ত মহারাজকে গ্রেফতারের দাবিও ওঠে। খবর পেয়ে সিতাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি অভিযুক্ত স্বামী জ্ঞানানন্দকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তবে ভাইরাল ভিডিয়োই কি পুরো ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করে ? ভিডিয়োটি আদৌ কবে, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে তৈরি হয়েছিল ? এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না-সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রায় দশ বছর ধরে যে আশ্রমকে ঘিরে শিশুদের পড়াশোনা এবং নানা সমাজসেবামূলক কাজ চলেছে বলে স্থানীয়দের দাবি, সেই আশ্রমই এখন এক ভাইরাল ভিডিয়ো এবং গুরুতর অভিযোগের জেরে বিতর্কের কেন্দ্রে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশের তদন্তেই এখন স্পষ্ট হবে, ভাইরাল ভিডিয়োর আড়ালে আসল ঘটনা ঠিক কী।





