কলকাতা, ২৯ আগস্টঃ থানার গেটে তালা ঝুলছে। বাইরে বিক্ষোভ, ভিতরে আটকে পুলিশকর্মীরা। স্বাধীনতা দিবসের রাতে মধ্য কলকাতার এন্টালিতে এমনই এক দৃশ্য ঘিরে তৈরি হয়েছিল উত্তেজনা। সেই ঘটনার কয়েক দিন পরেই দলীয় স্তরে কড়া পদক্ষেপ। থানার মেন গেটে তালা ঝোলানোর অভিযোগে স্থানীয় বিজেপি নেতা সুদীপ রামকে সাসপেন্ড করল দল।
অভিযোগ, গত ১৫ অগস্ট রাতে এন্টালি থানার সামনে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের একাংশের বিক্ষোভকে ঘিরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ তৈরি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই বিক্ষোভে ছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা সুদীপ। অভিযোগ, তিনি থানার মূল গেটে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। ফলে পুলিশকর্মীদের থানা থেকে বেরোতে সমস্যায় পড়তে হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তালা খুলে দেয়।
ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল রাজ্যের শাসকদলের কোনও নেতা যদি থানার গেটে তালা ঝোলান, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ওঠে, ক্ষমতায় থাকা দলের নেতা-কর্মী একই কাজ করলে কি তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে? বিজেপির সাম্প্রতিক পদক্ষেপ যেন সেই প্রশ্নেরই উত্তর।
শুক্রবার সুদীপকে শোকজ করেছে দল। জানতে চাওয়া হয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের রাতে কেন তিনি থানায় গিয়ে এমন আচরণ করেছিলেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর দিতে হবে তাঁকে। উত্তর গ্রহণযোগ্য না হলে পরবর্তী শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও থাকছে।
রাজ্যে পালাবদলের পর নিচুতলায় দলের কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দলবিরোধী কার্যকলাপ-সহ নানা অভিযোগ উঠছে বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। তাই সংগঠনের ভিতর থেকেই ‘লাগাম’ টানার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলেছেন, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে আপস নয়। পুলিশের উপর হামলা বা পুলিশের কাজে বাধা কোনও ক্ষেত্রেই রেয়াত করা হবে না। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও কর্মী-সমর্থকদের সংযত থাকার বার্তা দিয়েছেন।
রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলালেই কি বদলে যায় আইনের ভাষা? এন্টালির ঘটনায় বিজেপির কড়া পদক্ষেপ অন্তত আপাতত সেই বার্তাই দিতে চাইছেসরকার যে দলেরই হোক, থানার দরজায় দাঁড়িয়ে আইন নিজের হাতে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।





