তারাপীঠ, ২৯ আগস্টঃ এক হাতে পুজোর ডালা, সামনে মন্দিরের গর্ভগৃহ। চারপাশে তখন ভক্তদের ভিড়, মন্ত্রোচ্চারণ আর ‘জয় তারা’ ধ্বনি। সেই আবহেই তারাপীঠে মা তারার সামনে মাথা নোয়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কৌশিকী অমাবস্যার ঠিক আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই পুজো ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই তৈরি হল আলাদা আবেগ ও আগ্রহ।
লাল বেনারসি, পদ্ম এবং অপরাজিতার মালা দিয়ে মা তারার পুজো দেন শুভেন্দু। মন্ত্রোচ্চারণ করে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পাশাপাশি নিজের হাতে দেবীকে মালা পরান। পরে আরতিতেও অংশ নেন। পুজো শেষে মন্দির থেকে বেরোতেই তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ভক্তেরা। ছবি তোলা, সেলফির আবদার মন্দির চত্বরের ধর্মীয় আবহের সঙ্গে মিশে যায় জনতার উৎসাহও।
কৌশিকী অমাবস্যার আগে তারাপীঠে এমনিতেই সাজ সাজ রব। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তেরা আসতে শুরু করেছেন। বিশ্বাস, ভক্তি আর মানতের টানে কয়েক দিনের মধ্যেই এই তীর্থক্ষেত্রে মানুষের ঢল নামবে। সেই আবহে মুখ্যমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির কথাও উঠে এসেছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যায় ভক্তদের জন্য সব রকম ব্যবস্থা করা হবে।
পুজো শেষে তাঁর বার্তা, “মা তারা, রবি ঠাকুর, ঐতিহ্য-সংস্কৃতির বীরভূম গড়ে তুলব।” তারাপীঠের ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি বীরভূমের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও সামনে রাখলেন তিনি।
তবে মন্দিরের শান্ত আবহের বাইরে রাজনীতির কথাও এড়াননি মুখ্যমন্ত্রী। দেউচা-পাচামি প্রসঙ্গে আগের সরকারকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “আগের সরকারের একটাই মন্ত্র ছিল, নো, নো, নো। বর্তমান সরকারের একটাই মন্ত্র হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ।”
ধর্মীয় বিশ্বাসের পীঠস্থান তারাপীঠে তাই এ দিন একসঙ্গে দেখা গেল ভক্তি, রাজনীতি এবং প্রশাসনের বার্তা। আর কৌশিকী অমাবস্যার আগে মা তারার দরবারে মুখ্যমন্ত্রীর প্রার্থনা বীরভূমের মাটি, সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে নতুন সরকারের সম্পর্কেরও যেন এক প্রতীকী ছবি হয়ে রইল।





