মালদহ, ২৬ আগস্টঃ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের পর এ বার মালদহ মেডিক্যাল কলেজ। এক দিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় শোরগোল পড়েছে মালদহে। বিষয়টি প্রথমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে স্বাস্থ্য দফতরের নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্যভবন। ঘটনার কারণ জানতে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি অগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের। মালদহ মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতি মা ও নবজাতকদের জন্য পৃথক ভবন রয়েছে। ১১২০ শয্যার ওই ভবনের নাম ‘মাতৃমা’। সেখানেই একই দিনে ১০ সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত ১০ শিশুর মধ্যে আট জনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় অন্য হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে মালদহ মেডিক্যালে রেফার করা হয়েছিল। ওই দিন মালদহ মেডিক্যাল কলেজেই জন্ম নেওয়া দু’টি শিশুরও মৃত্যু হয়।
অভিযোগ, ঘটনার পর প্রথম দিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চাননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরে স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইটে মৃত্যুর তথ্য আপলোড হওয়ার পরেই বিষয়টি নজরে আসে স্বাস্থ্যভবনের। একসঙ্গে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর তথ্য সামনে আসতেই শুরু হয় নড়াচড়া। ডেথ সার্টিফিকেটে শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস-সহ বিভিন্ন কারণের উল্লেখ রয়েছে।
মালদহ মেডিক্যাল কলেজের সুপার প্রসেনজিৎ বর বলেন, ‘‘১০টি শিশুর মধ্যে মাত্র দু’জনের জন্ম হয়েছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে। বাকিদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাইরে থেকে রেফার করা হয়েছিল।’’ তাঁর কথায়, স্বাস্থ্যভবন থেকে ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। পরে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও পাঠানো হবে।
বৃহস্পতিবার জেলাশাসকের দফতরেও এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, একটি জেলায় এক সপ্তাহে শিশুমৃত্যুর এমন পরিসংখ্যান গোটা রাজ্যের পরিস্থিতির উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় স্তরের নিরিখেও বিষয়টি উদ্বেগের বলেই মনে করছে প্রশাসন।
এখন স্বাস্থ্যভবনের রিপোর্ট পর্যালোচনার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে।





