কলকাতা, ২৬ আগস্টঃ ভুয়ো নথি ও অস্তিত্বহীন সংস্থার লেনদেন দেখিয়ে বিপুল টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ। ফুলবাগানের কাঁকুড়গাছির এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের দফতরে আয়কর হানা দিয়ে উদ্ধার হওয়া নথি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কলকাতায়। আয়কর দফতরের অভিযোগ, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ভুয়ো শংসাপত্রের ভিত্তিতে প্রায় ৫৫৫ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা বিদেশে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় দুই ভাই-বোন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে ফুলবাগান থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত সপ্তাহে কাঁকুড়গাছির কাদাপাড়া এলাকায় ওই সিএ ফার্মে তল্লাশি চালান আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা। বিদেশে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচারের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান। তল্লাশিতে বেশ কিছু নথি ও শংসাপত্র উদ্ধার হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় আয়কর কর্তাদের দাবি, বিদেশে টাকা পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত ওই শংসাপত্রগুলির বেশ কয়েকটি ভুয়ো।
নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নথি, চুক্তিপত্র, হিসাবের খাতা এবং কর সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখে তবেই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের শংসাপত্র দেওয়ার কথা। অভিযোগ, ফুলবাগানের ওই সিএ ফার্মে সেই নিয়ম মানা হয়নি। অস্তিত্বহীন কয়েকটি ‘শেল’ সংস্থার লেনদেন দেখিয়ে তৈরি করা হয়েছিল ভুয়ো নথি।
আয়কর দফতরের দাবি, জেরায় ওই দুই সিএ নথি যাচাই না করেই শংসাপত্র দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। সেই শংসাপত্রের ভিত্তিতেই কয়েক বছরে ৫৫৫ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৯৫১ টাকা বিদেশে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
আয়কর কর্তাদের অনুমান, এই বিপুল অর্থ পাচারের নেপথ্যে আরও বড় একটি চক্র রয়েছে। ওই চক্রের সদস্যেরা অভিযুক্ত সিএদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ। তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক আয়কর কর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে ফুলবাগান থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত দুই ভাই-বোনকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পাশাপাশি অর্থ পাচারের গোটা চক্রের সন্ধানেও তদন্ত চলছে।





