নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া: দুপুরে আচমকাই বহুতলের উপর দিক থেকে বেরোতে শুরু করেছিল ধোঁয়া। মুহূর্তের মধ্যে সেই ধোঁয়া পরিণত হয় লেলিহান আগুনে। আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায় আবাসনের ভিতর। প্রাণ বাঁচাতে বাইরে বেরিয়ে আসেন অনেকে। কিন্তু তখনও বহুতলের ভিতরে আটকে ছিলেন বেশ কয়েক জন। ঝুঁকি নিয়ে ভিতরে ঢুকে একে একে তাঁদের উদ্ধার করলেন দমকলকর্মীরা। বুধবার দুপুরে হাওড়ার আন্দুলের অঙ্কুরহাটি এলাকার ঘটনায় অল্পের জন্য বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অঙ্কুরহাটির ওই আবাসনে প্রায় ১০-১২টি পরিবার থাকে। এ দিন দুপুর একটা নাগাদ বহুতলের উপরের দিকে একটি ফ্ল্যাট থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, তিনতলার কোনও একটি ফ্ল্যাটে আগুনের সূত্রপাত। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে বাসিন্দারা বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে মহিলা, শিশু এবং বয়স্কদের নিয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল। পাঁচটি ইঞ্জিন নিয়ে শুরু হয় আগুন নেভানোর কাজ। তত ক্ষণে বহুতলের ভিতরে আটকে পড়েছিলেন জনা আটেক বাসিন্দা। ধোঁয়া এবং আগুনের মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে দমকলকর্মীরা ভিতরে ঢোকেন। একে একে আটকে থাকা বাসিন্দাদের উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসা হয়। কয়েক জনের শরীরের কিছু অংশ আগুনে ঝলসে গিয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দমকল সূত্রে খবর, শেষ পর্যন্ত সকল আবাসিককেই নিরাপদে বার করে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত শুরু হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর আবাসনের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। দমকলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গিয়েছে, বহুতলে কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। তার উপর বাইরে বেরোনোর জন্য রয়েছে মাত্র একটি সিঁড়ি। পৃথক কোনও জরুরি বহির্গমন পথ বা ‘ইমার্জেন্সি গেট’ও নেই। ফলে আগুন আরও ছড়ালে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারত, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন।





