কলকাতা, ২৬ আগস্টঃ ফুটপাথ দখলমুক্ত করার অভিযান ঘিরে বিতর্কের আবহ কাটতে না কাটতেই ফের মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বুধবার তাঁর মন্তব্য, ‘‘ফুটপাথ দখল একটা ফ্যাশন পশ্চিমবাংলায়।’’ তাঁর দাবি, এত দিন রাজনৈতিক নেতাদের একাংশ নিজেদের স্বার্থে ফুটপাথ দখলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করেননি। কিন্তু এখন যানবাহন এবং পথচারীর সংখ্যা বাড়ায় দখলমুক্তি জরুরি হয়ে পড়েছে।
ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন করে দিলীপ বলেন, ‘‘ফুটপাথ দখলমুক্ত করতেই হবে। এত দিন রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের সুবিধার জন্য এসব করেননি। যানবাহন বেড়েছে, লোক চলাচল বেড়েছে। এখন রাস্তা ছোট হলে সকলেরই খুব অসুবিধা। যেসব রাস্তা এখনও দখল হয়ে আছে, সেগুলি সরালে রাস্তা যথেষ্ট বড় হবে।’’
সম্প্রতি পার্ক স্ট্রিটের কাছে ফুটপাথে এক পরিবারকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। ফুটপাথে বসবাসকারী ওই পরিবারের এক মহিলা শিশুর দুধ গরম করছিলেন। তা দেখে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আপত্তি জানান। পরে জানা যায়, ওই পরিবারের মাথার উপর কোনও স্থায়ী ছাদ নেই। বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।
এর পর মঙ্গলবার বিধায়ক সজল ঘোষ ওই পরিবারকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ যান। পরিবারের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পুরসভাকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে দিলীপের প্রশ্ন, এক পরিবারের ব্যবস্থা হলেই কি সমস্যার সমাধান? তাঁর কথায়, শহরের বিভিন্ন জায়গায় এখনও ফুটপাথ দখল হয়ে রয়েছে। যান চলাচল এবং পথচারীদের সুবিধার জন্য সেগুলি সরানো প্রয়োজন।
ওই পরিবারের সঙ্গেও তাঁর দেখা হয়েছে বলে জানান দিলীপ। তাঁর দাবি, পরিবারটি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা রেখেছে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সবাই এখন বুঝতে পারছে, অ্যাডজাস্ট করছে।’’ পাশাপাশি শহরকে পরিচ্ছন্ন ও চলাচলের উপযোগী করে তুলতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।
দখলমুক্তির পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। ফলে এক পরিবারের পুনর্বাসনের আশ্বাসের পাশাপাশি বৃহত্তর ফুটপাথ দখলমুক্তির প্রশ্নটিও ফের সামনে আনলেন তিনি।





