কোচবিহার, ৭ আগস্টঃ একটি ছোট্ট জোড়া পায়ের শব্দ হঠাৎই থেমে গেছে। যে উঠোনে কিছুক্ষণ আগেও খেলা করছিল দেড় বছরের শিশুটি, সেই উঠোন এখন নিস্তব্ধ। মায়ের ডাক, বাবার ছুটে বেড়ানো, আত্মীয়-প্রতিবেশীদের মরিয়া খোঁজ সব মিলিয়ে এক অদৃশ্য আতঙ্ক গ্রাস করেছে গোটা এলাকাকে।
বাড়ির উঠোন থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় দেড় বছরের ওই শিশু। পরিবারের দাবি, মুহূর্তের অসাবধানতার সুযোগেই শিশুটি কোথায় চলে গেল, তা কেউ বুঝে উঠতে পারেননি। প্রথমে বাড়ির চারপাশ, আত্মীয়দের বাড়ি, পুকুরপাড়, ঝোপঝাড় সব জায়গায় খোঁজ চালানো হয়। কিন্তু কোথাও মেলেনি তার সন্ধান। এরপরই খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ শুরু করে ব্যাপক তল্লাশি। পরিবারের আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে নিকটবর্তী নদীতেও শুরু হয়েছে অনুসন্ধান। নদীর জলে জমে থাকা ঘন কচুরিপানা একের পর এক সরিয়ে প্রতিটি কোণ খুঁটিয়ে দেখছেন উদ্ধারকারীরা। পুলিশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তল্লাশিতে নেমেছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরাও। কারও হাতে বাঁশ, কারও হাতে জাল একটাই আশা, ছোট্ট শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া।
নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। প্রতিটি মুহূর্ত যেন তাঁদের কাছে এক একটি দীর্ঘ অপেক্ষা। গ্রামের মানুষও প্রার্থনা করছেন, এই দুঃস্বপ্নের যেন সুখের পরিসমাপ্তি হয়। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিশুটির কোনও সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজের পিছনে দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কোনও রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সব দিক খোলা রেখেই চলছে অনুসন্ধান।
একটি শিশুর হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা এলাকার বুকজুড়ে অজানা শঙ্কার ছায়া ফেলেছে। এখন সকলের চোখ নদীর দিকেই প্রার্থনা একটাই, ছোট্ট প্রাণটি যেন নিরাপদে ফিরে আসে তার মায়ের কোলে।





