কলকাতা, ৬ আগস্টঃ প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ‘সারপ্লাস’ বা উদ্বৃত্ত বদলির প্রক্রিয়ায় আপাতত ব্রেক টানল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ নয় তথ্য সংগ্রহ, আবেদন গ্রহণ এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে পারবে রাজ্য। কিন্তু সেই তথ্যের ভিত্তিতে এখনই কোনও শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীকে বদলি করা যাবে না। বুধবার এমনই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিভাস পট্টনায়েক।
এ দিন আদালতে ‘সারপ্লাস’ বদলিকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে বিচারপতি স্পষ্ট করে জানান, রাজ্য সরকার সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবে। শিক্ষকরা বদলির আবেদনও জমা দিতে পারবেন। তবে সেই আবেদন বা তথ্যের ভিত্তিতে কোনও বদলির নির্দেশ কার্যকর করা যাবে না। আগামী বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার (আরটিই) আইনে প্রতি ৩০ জন পড়ুয়ার জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা বলা হয়েছে। সেই ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত বজায় রাখতেই গত ১৫ ও ২৪ জুলাই দু’দফায় ‘সারপ্লাস’ বদলির এসওপি প্রকাশ করে রাজ্য সরকার। সরকারের যুক্তি, কোথাও শিক্ষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি, আবার কোথাও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতেই উদ্বৃত্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হন একাংশ শিক্ষক। তাঁদের অভিযোগ, বদলির ক্ষেত্রে বয়স, চাকরির মেয়াদ এবং অগ্রাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে এসওপিতে স্পষ্টতা নেই। কোন ভিত্তিতে কাকে ‘সারপ্লাস’ ধরা হবে এবং কীভাবে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মামলাকারীরা। তাঁদের দাবি, এই অস্পষ্টতার ফলে বহু শিক্ষক অযথা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
বুধবারের শুনানিতে সেই আপত্তির প্রেক্ষিতেই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় আদালত। ফলে আপাতত বদলির চূড়ান্ত নির্দেশ জারি করা যাবে না। তবে প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলবে, যাতে আদালতের পরবর্তী নির্দেশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব হয়। এখন আগামী বুধবারের শুনানির দিকেই তাকিয়ে শিক্ষক মহল এবং শিক্ষা দফতর।





