কলকাতা, ৩১ জুলাইঃ খাগড়াগড় বিস্ফোরণের স্মৃতি এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর সেই বিস্ফোরণে প্রকাশ্যে এসেছিল জঙ্গি কার্যকলাপের এক ভয়াবহ চক্র। ঠিক তার ১২ বছর পর, খাগড়াগড় থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে বর্ধমানের একটি অভিজাত আবাসন থেকে গ্রেপ্তার হল হামিদ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত কাশ্মীরের ‘সাজ্জাদ ভাট’ গোষ্ঠীর সদস্য। অভিযোগ, তাঁর নিশানায় ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তদন্তে জানা গিয়েছে, হামিদের বাড়ি হাওড়ার পিলখানায়। পেশায় তিনি গেঞ্জি কারখানার দর্জি ছিলেন। তাঁর বাবাও একই পেশার সঙ্গে যুক্ত। পরে তিনি নিউটাউনের একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতে শুরু করেন। তদন্তকারীদের দাবি, সেই বাড়ির খুব কাছেই মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের পথও তিনি নজরে রেখেছিলেন। ভোটের ফল প্রকাশের পর তিনি বর্ধমানের একটি আবাসনে ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
রেনেসাঁ হাউসিংয়ের ওই ফ্ল্যাটটি একতা মেহেরা নামে এক ব্যক্তির বলে জানা গিয়েছে। প্রতিবেশীদের দাবি, স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন হামিদ। নিজেকে ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিতেন। কেন হাওড়া ছেড়ে বর্ধমানে এসে থাকতে শুরু করেছিলেন, সে বিষয়ে কখনও স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তাঁর আচরণে বিশেষ অস্বাভাবিক কিছু চোখে না পড়লেও, গ্রেপ্তারের পর বিস্মিত হয়েছেন আবাসনের বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার বেঙ্গল এসটিএফ হামিদকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সেই ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁর যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের খোঁজ চলছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হামিদ পূর্ব ভারতে জঙ্গি সংগঠনের প্রভাব বিস্তারের কাজে যুক্ত ছিলেন। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন পেশার মানুষ, বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলত বলে সন্দেহ। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও রাজস্থানের সঙ্গে এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খাগড়াগড় বিস্ফোরণের এক দশকেরও বেশি সময় পরে বর্ধমানে ফের জঙ্গি-যোগের অভিযোগ সামনে আসায় নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। হামিদ একাই কাজ করছিলেন, নাকি বৃহত্তর কোনও নেটওয়ার্কের অংশ ছিলেন তার উত্তর খুঁজতেই এখন জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।





